মঙ্গলবার বিকেলে কুষ্টিয়ার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হাফিজুর রহমান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কৈপাল গ্রামের মৃত আসগর আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া শাখায় পরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন।
.png)
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি হাফিজুর রহমানকে পেনাল কোডের ৪০৯ ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করার অপরাধে ৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪৭৭ (ক) হিসাবপত্র বিকৃত করার অপরাধে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধমূলক অসদাচরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সকল কারাদণ্ড একত্রে চলবে।
আরো পড়ুন >>> ভাবির সর্বনাশ করে কারাগারে দেবর
জানা গেছে, ২০০৪ সালের ৯ আগস্ট থেকে ২০০৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত হাফিজুর রহমান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া শাখায় কৃষি ব্যাংকের পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় তিনি বিভিন্ন ঋণ গ্রহীতার কাছ থেকে আই ও রশিদ এর মাধ্যমে আদায়কৃত টাকার মধ্যে ১৫টি আই ও রশিদে নিজে স্বাক্ষর করে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৯৫ টাকা আদায় করে। তৎকালীন সময়ে ঐ ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে ঐ টাকা হস্তান্তর না করে অবৈধভাবে নিজেই আত্মসাৎ করেন হাফিজুর রহমান।
এ অভিযোগে ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় মামলাটি করেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক আব্দুল গাফফার। মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তের পর আদালতে ওই মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ১৮ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে মঙ্গলবার আদালত এ রায় দেন।
আরো পড়ুন >>> বাবার সঙ্গে বাজারে এসে লাশ হলো শিশু
দুদকের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আল মুজাহিদ হোসেন মিঠু বলেন, মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আসামি হাফিজুর রহমানকে ৪ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। পাশাপাশি তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৯ মাসের বিনাশ্রম সাজার আদেশ দেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।