সেই নবজাতক ফিরল মায়ের কোলে
অবশেষে মায়ের কোল ফিরে পেয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া সেই নবজাতক। বিক্রি হওয়া নবজাতককে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী শরিফুল হাসান।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ষাটনল গ্রাম থেকে উদ্ধার করে ছেঙ্গারচর পৌরসভার বাড়িতে গিয়ে সেই নবজাতককে মায়ের কোলে তুলে দেন ইউএনও।
এর আগে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে নবজাতককে এক দম্পতির কাছে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন মা তামান্না বেগম। এমন ঘটনা পৌঁছে যায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে। পরে রাতেই ইউএনও গাজী শরীফুল হাসানের সহায়তায় উপজেলার ষাটনল গ্রাম থেকে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।
.png)
জানা গেছে, এর আগে প্রবাসী দম্পতির কাছে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ নবজাতক আদান-প্রদান করা হয়েছিল। ষাটনল এলাকার প্রবাসীর স্ত্রী সীমলা আক্তার শিশুটিকে কিনেছিলেন। তার তিন মেয়ে রয়েছে। তিনি এ নবজাতক ছেলে শিশুটিকে লালনপালন করার জন্য নিয়েছিলেন।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান বলেন, নবজাতকের মা এবং নানি স্বীকার করেছেন, মূলত আর্থিক সমস্যার কারণে প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে বাচ্চাটিকে বিক্রি করে দেন তারা। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি জানতে পারি এবং রাতে ষাটনল এলাকা থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি।
২৬ জানুয়ারি প্রসববেদনা নিয়ে মতলব উত্তর উপজেলার পালস-এইড জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন দুই সন্তানের মা তামান্না। এরপর সিজারের মাধ্যমে ফুটফুটে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। হাসপাতাল ও ওষুধ খরচের ব্যয় বহন করতে না পেরে ৫০ হাজার টাকায় বাধ্য হয়ে নাড়িছেঁড়া ধন বিক্রি করেন স্থানীয় এক নিঃসন্তান দম্পত্তির কাছে।
তামান্না ছেংগারচর পৌরসভার বারোআনি গ্রামের বাসিন্দা। পাঁচ বছর আগে তামান্না পার্শ্ববর্তী হানিরপাড় গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে দিনমজুর আলমের সঙ্গে বিয়ে হয়।