সোমবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ। এর আগে, ভোরে রাউজান উপজেলার সুলতানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ইসহাক হাটহাজারী উপজেলার ফটিকা এলাকার মো. কামাল হোসেনের ছেলে।
.png)
র্যাব জানায়, ২০১৬ সালের ৫ মার্চ সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে পারভিন আক্তারের ছেলেকে পড়াতে বাসায় আসেন গৃহশিক্ষক। পড়ানো শেষে রাত সোয়া ৯টার দিকে শিক্ষক চলে যাওয়ার সময় তাকে বিদায় দিতে দরজা পর্যন্ত যায় পারভিনের ছেলে। ওই সময় ভবনের চতুর্থ তলার সিঁড়িতে মাথায় ক্যাপ পরা অপরিচিত এক ব্যক্তিকে দেখে ভয়ে বাসায় ঢুকে পড়ে সে।
এরপরই অজ্ঞাত চার ব্যক্তি তাদের বাসায় প্রবেশ করেন। তারা পারভিন ও তার ছেলেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমিরার চাবি দিতে বলেন। ওই সময় চাবি না দিয়ে চিৎকারের চেষ্টা করেন পারভিন। তখনই তারা পারভিনের মুখ চেপে ধরে তাকে মেঝেতে ফেলে দেন। এরপর হাত-পা শাড়ির কাপড় দিয়ে বেঁধে তার শাড়ি খুলে গলায় ফাঁস ও মাথায় আঘাত করে বাসা থেকে স্বর্ণলংকার, মোবাইল, ট্যাব এবং টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
আহত পারভিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পারভিনের স্বামী নুরুল আলম বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হত্যা মামলা করেন।
ওই মামলায় ইসহাকসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। সে সময় অপর তিন আসামি ইয়াসিন, মনসুর ও আবু তৈয়ব ওরফে রানা উপস্থিত থাকলেও পলাতক ছিলেন মামলার চার নম্বর আসামি ইসহাক।
রায় ঘোষণার পর থেকে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন ইসহাক। তাকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে রাউজানের সুলতানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইসহাককে গ্রেফতার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, ভুক্তভোগী পারভিন আক্তারের স্বামী নুরুল আলম ও তার বড় ভাই আব্দুস শুক্কুরের যৌথ মালিকানাধীন বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকার বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির বহুতল ভবনটিতে দারোয়ান হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন মামলার এক নম্বর আসামি ইয়াছিন। তিনি নুরুল আলমের দূর সম্পর্কের ভাগ্নেও বটে।
নুরুল আলম ও আব্দুস শুক্কুর আবুধাবিতে ব্যবসা করেন। একসময় নিজ উদ্যোগে ইয়াছিনকে বিদেশ নিয়ে যান আব্দুস শুক্কুর। সেখানে শুক্কুরের সঙ্গে মনোমালিন্য হলে দেশে ফিরে আসেন ইয়াছিন। এরপরই দুই ভাইয়ের ওপর ক্ষোভের জেরে বন্ধু মনসুরকে নিয়ে করেন তাদের ক্ষতির পরিকল্পনা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী আরো দুই সহযোগী আবু তৈয়ব ওরফে রানা ও ইসহাককে সঙ্গে গিয়ে নুরুল আলমের স্ত্রী পারভিন আক্তারকে গলায় ফাঁস ও মাথায় গুরুতর আঘাত করে হত্যা করেন।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেন ইসহাক। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র্যাবের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।