নিরাপত্তা সংকট, মাদকের আগ্রাসন, অপহরণসহ অন্যান্য প্রভাব যা পর্যটন শিল্পের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। এই জনপদে সরকার মানবিক হয়ে মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়।
পরিবেশবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে রোহিঙ্গারা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শিল্প সমৃদ্ধ অঞ্চল কক্সবাজারের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
.png)
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাতীয় সেমিনারের বিষয় ছিল কক্সবাজার পর্যটন অঙ্গনে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ শীর্ষক আলোচনায় উপরোক্ত বিষয় উঠে আসে। পিএইচডির গবেষক সহকারী অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন সেমিনারে গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন।
অধ্যাপক মোহাম্মাদ আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন- পিএইচডির তত্ত্বধায়ক অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরাম হোসেন ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান খন্দকার।
ড. মল্লিক আকরাম হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে শুধু স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটনের পরিবেশ বিপর্যয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় হচ্ছে এমন নয়। এটা সামগ্রিক রাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি। শুধু তাই নয়,পর্যটন শহর কক্সবাজারে, ইজিবাইক, টমটম, সিএনজি ও মাহিন্দ্রা চালক অধিকাংশই রোহিঙ্গা। হোটেল রেস্তোরাঁয় কাজ করছে রোহিঙ্গারা। গৃহ পরিচারিকার ক্ষেত্রেও রয়েছে রোহিঙ্গাদের প্রভাব। ডেইলি লেবারের বাজার দখল করে আছে রোহিঙ্গারা।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা হোটেল মোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে নোংরা পরিবেশ তৈরি করেছে। এই রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ রোধ করা না গেলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সুষ্ঠু পরিবেশ আশা করা যায় না।
এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী, ত্রাণ সামগ্রীসহ সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করা সত্ত্বেও নিয়ম ভেঙে বাইরে অবাধ বিচরণ করছে। এমনকি খুন খারাবি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, জলদস্যুতাসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে। সে কারণে পর্যটন শিল্পে পড়ছে বিরূপ প্রভাব।