ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

২০ বছর পর রাস্তায় রাস্তায় মাকে খুঁজছেন ছেলে

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৯, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
২০ বছর পর রাস্তায় রাস্তায় মাকে খুঁজছেন ছেলে
‘মাকে খুঁজছি’ শিরোনামে পোস্টার লাগাচ্ছেন (বামে) লিফলেট হাতে মুস্তাকিন (ডানে)

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মা নিখোঁজ। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও পাননি কোনো সন্ধান। অবশষে মায়ের খোঁজে যশোরের রাস্তায় রাস্তায় ২৫ বছর বয়সী ছেলে মুস্তাকিন আহমেদ। স্মৃতি হিসেবে সঙ্গে এনেছেন মায়ের সঙ্গে কাটানো শিশু বয়সের কয়েকটি ছবি।

মায়ের ছবিগুলোই বড় করে পোস্টার বানিয়ে ‘মাকে খুঁজছি’ শিরোনামে পোস্টার বানিয়ে শহরের মোড়ে মোড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ও বাড়ির প্রাচীরে সাঁটছেন তিনি। মানুষের মাঝেও করছেন বিলি। রোববার বিকেলে যশোর শহরের মুজিব সড়কের বিভিন্ন দেয়াল ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ‘মাকে খুঁজছি’ শিরোনামে পোস্টার লাগাতে দেখা যায় মুস্তাকিনকে।

সেই পোস্টারে তিনি লিখেছেন, ‘এ মহিলা আমার মা, আমার মা ২০ বছর ধরে নিখোঁজ। আমার মায়ের বাড়ি যশোর জেলায়। আমার মাকে যদি কোনো স্ব-হৃদয়বান ব্যক্তি চিনে থাকেন, তাহলে আমাকে ফোন দিয়ে আমার মাকে খুঁজে পেতে দয়া করে সাহায্য করুন’। পোস্টারে দুটি মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়েছে। গত দুদিন ধরে মায়ের সন্ধান করেও কোনো সূত্র না পেয়ে হতাশ ছেলেটি।

Advertisement

মুস্তাকিনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কামারগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল খালেক। মুন্সিগঞ্জের দোহায় কুয়েত মাদরাসা থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বেঁচে থাকার তাগিদে মাওয়া ফেরিঘাটে এখন বিক্রি করেন ডাব।

মুস্তাকিন জানান, তার নানাবাড়ি যশোরে শুধু এতটুকু তথ্য জানতেন। এক সপ্তাহ আগে বাড়ির পুরাতন বাক্সে অনেকগুলো পুরাতন ছবি পান। এর মধ্যে দুটি ছবিতে দেখতে পান এক নারীর কোলে ও পাশে একটি ছেলে। আর সেই ছবিটি ভারতের কোনো এক জায়গার (ছবি পেছনের দোকান ও পারিপার্শ্বিক চিত্র)। মুস্তাকিনের এক চাচা মেহেদী হাসান তাকে নিশ্চিত করেছেন এ ছবি দুটি তার (মুস্তাকিনের) মায়ের। এরপর মুস্তাকিন মায়ের সন্ধানে নেমে পড়েছেন রাস্তায়। তিনি যশোরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন।

মুস্তাকিন আরো জানান, তার বাবা আবদুল খালেক প্রথম স্ত্রীকে রেখে ভারতে চলে যান প্রায় ২৫ বছর আগে। গুজরাটে অবস্থানকালে তার মায়ের সঙ্গে পরিচয়। সেখানেই বিয়ে। তার জন্মও সেখানে।

তার বয়স যখন পাঁচ বছর তখন বাবা-মায়ের সঙ্গে ফেরেন দেশে। ফেরার পর সৎ মা তাদের মেনে নিতে পারেননি। একপর্যায়ে মুস্তাকিনকে সৎ মায়ের কাছে রেখে তার মাকে তালাক দেন বাবা।

মায়ের সন্ধানে বের হওয়া মুস্তাকিন বলেন, নানাবাড়ি যশোরে শুধু এতটুকু তথ্য জানি। এক সপ্তাহ আগে বাড়ির পুরোনো বাক্সে অনেকগুলো পুরোনো ছবি পাই। এর মধ্যে দুটি ছবিতে দেখি এক নারীর কোলে ও পাশে একটি ছেলে। আর সেই ছবিটি ভারতের কোনো এক জায়গার।

এ বিষয়ে মুস্তাকিনের সৎ মা (বাবার প্রথম স্ত্রী) রেশমা খাতুন বলেন, মুস্তাকিনের বাবা ও মায়ের বিয়ে হয় ভারতে। পরে তারা দেশে আসেন। মুস্তাকিনের বয়স যখন চার থেকে পাঁচ বছর তখন তার মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। আমার দেবর ২০ হাজার টাকা দেন মুস্তাকিনের মাকে। তিনি মুস্তাকিনকে আমার কাছে রেখে চলে যান। কয়েক বছর আগে তার বাবা মারা গেছেন। তিনি কখনো মুস্তাকিনের নানাবাড়ির পরিচয় বলে যাননি। শুধু এটুকু জানি তার বাড়ি যশোরে ছিল।

তিনি আরো বলেন, মুস্তাকিনের মা আবারো ভারতে চলে গেছেন হয়তো। তাকে বলেছি তোর মা বেঁচে থাকলে ফিরে আসবে। যদি ফিরে আসে, তার থাকার জায়গা করে দেব। সে আমাদের কথা শোনে না।

মুস্তাকিনের চাচা অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান বলেন, মুস্তাকিন তার মায়ের সন্ধান করছে। ওই ছবি দুটো তার মায়ের। তার বাবার সঙ্গে মায়ের ডিভোর্স হয়েছিল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!