সূত্র জানায়, পুরোনো রোহিঙ্গাদের মধ্যে ক্যাম্পের বাইরে অবাধে বিচরণ করছে- এমন কমপক্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আফগানিস্তানে বিভিন্ন অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এক সময় যুদ্ধে অংশ নিতে মিয়ানমার থেকে অন্তত সহস্রাধিক রোহিঙ্গা জঙ্গি আফগানিস্তানে গিয়েছিল। সেখানে গেরিলা যুদ্ধে কিছু রোহিঙ্গা নিহতও হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ইউনুছ জিহাদী। তার ভাই ইদ্রিস জিহাদী বিদেশ থেকে একটি ফাউন্ডেশনের নামে কোটি কোটি টাকা এনে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিলি না করে নিজেই আত্মসাৎ করেছে। বর্তমানে সে অঢেল সম্পত্তির মালিক। আরেক রোহিঙ্গা নেতা আরমানের সঙ্গে তালেবানদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা নেতা আবু সিদ্দিক আরমান, হাফেজ ছলাহুল ইসলাম, শায়খ ছালামত উল্লাহ, হাফেজ হাসিম, বাইট্টা শামসু, শফিকসহ অনেকে তালেবান, হুজি, আল কায়েদা, আল্লাহর দল, আরএসও, আল-ইয়াকিন ক্যাডারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা প্রায়ই ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিরোধী উসকানি দিচ্ছে।
.png)
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনসংখ্যা যেমন বেশি, অপরাধের পরিমাণও বেশি। প্রায়ই গোলাগুলি, খুনখারাবি লেগে থাকে। শুধু দেশি নয়, বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতাও রয়েছে ক্যাম্প দুটিতে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প সংলগ্ন বিভিন্ন পাহাড়ে থাকা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়। গ্রেফতার করা হয় অনেককে, উদ্ধার করা হয় অত্যাধুনিক অস্ত্র-গোলাবারুদ, ক্যামেরা, বাইনোকুলার, সামরিক পোশাকসহ ২৭ প্রকারের সামগ্রী।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পেলেই আমরা অভিযান চালাচ্ছি। এর আগে, কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের বেশ কয়েকটি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসবাদের কোনো সুযোগ নেই। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ ও জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা দমনে এপিবিএন সবসময় সতর্ক রয়েছে।