গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মরন দাস ওরফে সুমন ওরফে তাপস, আসাদুজ্জামান বাবু, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. আব্দুল মালেক, দুর্জয় রাজবংশী ও মো. আল-আমীন।
মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দিনাজপুরের আমবাগী গরু হাট থেকে গরু ব্যবসায়ী ছাদেক ৭টি গাভি, ২টি বকনা বাছুর ও ৫টি ষাঁড়সহ ১৪টি গরু ক্রয় করে কুমিল্লার লালমাই এলাকায় ফেরার পথে রাত দেড়টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর মোজার মিল সানসিটি সংলগ্ন কাঠ বাগানের সামনে টাংগাইল-ঢাকা মহাসড়কে পৌঁছালে একটি অজ্ঞাতনামা মাইক্রোবাস তাদের গরু বহনকারী ট্রাকটিকে গতিরোধ করে। পরে মাইক্রোবাস থেকে কয়েকজন এসে গরুর মালিক ছাদেক ও তার ছেলে রাকিবকে চোখ, মুখ, হাত-পা বেঁধে মাইক্রোবাসে নিয়ে তুলে এবং ট্রাকটি ডাকাতদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। সাভারের গেন্ডা এলাকায় যাওয়ার পর ডাকাতরা ঐ দুইজনকে ছেড়ে দিয়ে ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়।
.png)
এ ঘটনায় ২০ ফেব্রুয়ারি কাশিমপুর থানায় মামলা হলে পুলিশ গত সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জিরানী বাজার থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক আটক করে। এ সময় ট্রাকের সহযোগী রাজ্জাক দৌঁড়ে পালিয়ে গেলেও সুমন নামে একজনকে পুলিশ ধরে ফেলে। পরবর্তীতে সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, আশুলিয়া থানাধীন দক্ষিণ নাল্লাপোল্লা গ্রামে সাদিয়া ডেইরি ফার্ম নামে তার একটি গরুর খামার আছে। পুলিশ ঐ খামারে গিয়ে ৪টি গাভি, ২টি বকনা বাছুর, ৩৫টি ষাঁড়সহ ৪১টি গবাদি পশু ঐ খামারে পায়। পুলিশ গবাদিপশু ক্রয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে সে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। একপর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ হলে মামলার বাদীকে জানানো হয় এবং বাদী খামারে গিয়ে তার ডাকাতি হওয়া ৪টি গাভি, ২টি বাছুর এবং ৫টি ষাঁড়সহ ১১টি গরু শনাক্ত করে। পরে আশুলিয়া থানার জিরানীবাজার এলাকার আমান উদ্দিনের বাড়িতে সুমনের বাসায় তল্লাশি করে গরু বিক্রির ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৫০ টাকা উদ্ধার করে।
পুলিশ ডাকাতির হোতা সুমনের দেওয়া তথ্য অনুসারে বিভিন্ন স্থান থেকে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছয় ডাকাতকে গ্রেফতার করে। সংঘবদ্ধ এ ডাকাত দলটি মূলত শীতকালে রংপুর থকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন রুটে ডাকাতি করে থাকে। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে।