মৌসুমের শুরুতে হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় কিছু কিছু এলাকায় গমের বেশ ক্ষতি হয়েছে। তবে শেষ সময়ে এসে আবহাওয়া ভালো থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন গম চাষিরা। ভালো ফলন পাওয়ার আশায় শেষ সময়ে এসে গমের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গমের ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশাবাদী তারা।
জানা যায়, মৌসুম শেষের দিকে এসে কৃষকরা গমের ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও গমের দানা পরিপুষ্ট করতে জিংক জাতীয় কীটনাশক স্প্রে করছেন। এছাড়াও উড়ানি পোকা ও রোগ বালাই-দমনের ক্ষেত্রে বালাইনাশক ব্যবহার করছেন। এছাড়াও গম ক্ষেতের পরিচর্যার কোনো ঘাটতি নেই কৃষকদের মাঝে।
.png)
এলাকার একাধিক গম চাষিরা জানান, বুকভরা আশা নিয়ে গমের পরিচর্যা করছেন। এই অঞ্চলে গত বছরে গমের বাম্পার ফলন হয়েছিল। চলতি বছরে ঝড়-বৃষ্টি না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের ন্যায় গমের বাম্পার ফলন হতে পারে।
আরো পড়ুন: ‘ভাই আমাদের আর ভাঙা ঘরে থাকতে হবে না’
উপজেলার কাশিতাড়া গ্রামের গম চাষি ইসাহাক আলী, আজগর আলী জানান, শুরুতেই বৃষ্টির কারণে গমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া ভালো হয়। আবহাওয়া পরিবর্তন না হলে এবার গমের ভালো ফলন পাওয়া যাবে।
একই গ্রামের কৃষক মোকলেছুর রহমান বলেন, গমের দানা পরিপুষ্ট হতে শুরু করেছে। আর কিছুদিরে মধ্যেই গম কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু হবে। শেষ সময়ে এসে আমরা গমের বিভিন্ন প্রকার পরিচর্যা করছি। এ বছরে গমের বাম্পার ফলনের আশা করছি।
সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাপলা খাতুন বলেন, চলতি বছরে এই উপজেলায় গম চাষ হচ্ছে ৪ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন। প্রতি বিঘায় গড়ে ১৪-১৫ মণ হারে গম উৎপাদন হতে পারে। এ বছরে সরকারিভাবে ১ হাজার ৬০০ কৃষককে গমের প্রনোদনার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আবহাওয়ার অবনতি না ঘটলে এই বছরে গত বছরের তুলনায় গমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়াও এলাকার গম চাষিদের সব রকম পরামর্শ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে অব্যাহত রয়েছে।