ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আউশের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

হাফিজুর রহমান, বরগুনা
প্রকাশিত: ১৫:১৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
আউশের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
আউশের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বরগুনার ফসলের মাঠে পাকা ধানে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। যতদূর চোখ যায় সোনালী ধানের আভায় হারিয়ে যেতে হয়। আউশের বাম্পার ফলনের ফলে খুশির বন্যা বইছে কৃষকদের চোখে মুখে।

কেউ ধান কাটছে, কেউ মাড়াই করছে, কেউ আবার মাড়াই করা ধান রোদে শুকাতে ব্যস্ত। কোথাও আবার ধান কিনতে হাজির হয়েছে পাইকার কিংবা ব্যবসায়ীরা। 

বরগুনার কৃষকরা বলছেন, মৌসুমের শুরুর দিকে সুবিধামতো রোদ, মধ্যভাগে বৃষ্টি এবং শেষ দিকে অল্প কিছু দিন রোদ থাকায় আউশের ফলন ভালো হয়েছে। বরগুনা জুড়ে চলছে আউশ ধান কাটা, মাড়াই ও বিক্রির মহোৎসব।

Advertisement

আউশের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় এ বছর ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত বছর ফলন ভালো হওয়ায় এবং আশানুরূপ মূল্যে ধান বিক্রি হওয়ায় এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ করেছেন কৃষক। এবছর জেলায় ৪৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১২ হেক্টর বেশি।

আউশের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আউশ ধান মূলত প্রকৃতি নির্ভর একটি ধান। আউশ ধানের বীজ বপনের উপযুক্ত সময় ১৫-৩০ চৈত্র (৩০ মার্চ-১৫ এপ্রিল)। সাধারণভাবে ২০-২৫ দিনের চারা রোপণ করা উচিত। রোপণের সময় জমিতে ছিপছিপে পানি থাকলেই চলে। ১ হেক্টর জমিতে ৮-১০ কেজি বীজের চারা লাগে। সারিতে চারা রোপণ করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেন্টিমিটার এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৫-২০ সেন্টিমিটার হবে। 

আউশ ধান কাটার উপযুক্ত সময় ১৫ শ্রাবণ-২০ ভাদ্র (৩০ জুলাই- ৪ সেপ্টেম্বর)। প্রাকৃতিক কারণে আউশ রোপণে প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এবছর সব বাধা কাটিয়ে উঠেছে কৃষকরা। পোকামাকড় ও আগাছা দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপযুক্ত সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে চাষিদের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। যে কারণে এ বছর আউশ আবাধ দেরিতে হলেও ধানের ভালো ফলন হয়েছে।

আউশের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বরগুনা সদর উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়ন এর নলী বন্দর গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান বলেন, বর্ষার শুরুতে জমিতে পানি জমে থাকার কারণ। আমাদের আউশ ধান রোপণ করতে দেরি হয়েছে। দেরিতে হলেও প্রয়োজনীয় রোদ বৃষ্টি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ থাকায় ক্ষেতে ভালো ফলন হয়েছে এতে আমরা খুশি।

বরগুনা সদর, আমতলী, তালতলী, বেতাগী, পাথরঘাটা ঘুরে দেখা যায়, আউশ ধান ঘরে তুলতে কৃষাণ-কৃষাণি কারো যেন একটুও বিরাম নেই। চারদিকে এখন ধান কেটে ঘরে তোলার প্রতিযোগিতা। কৃষকরা অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়ে নিজ নিজ জমির আউশ ধান কাটাছেন। কেউ আবার মেশিন দিয়ে মাড়াই করছেন, খড় থেকে ধান ছাড়াচ্ছেন, কোথাও আবার রাস্তায় খড় ও ধান রোদে শুকাচ্ছেন।

আউশের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউপির কাশেম ফরাজী বলেন, এবার শুরু থেকে পানি বেশি থাকার কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমার ৮ একর জমিতে আউশ ধান চাষ করেছি, ফলনও ভালো হয়েছে। ধান তুলতে ও শুকাতে কিছুটা কষ্ট পেতে হচ্ছে। আকাশে কিছু সময় বৃষ্টি আবার কিছু সময় রৌদ্র এবং বৃষ্টির পানিতে উঠানো  ভেজা থাকা আমাদের মাঠের ধান শুকাতে সমস্যা হচ্ছে। তবে ভালো ফলন হওয়ায় সব কষ্টই সার্থক মনে হয়।

তালতলী উপজেলার নিশানবাড়ীয়া এলাকার কৃষক আ. মন্টু সিকদার বলেন, ‘বষার্র ভরা মৌসুমে বাড়ি  বৃষ্টিপাত হওয়ায় প্রায় ২০ একর আউশ জমি চাষাবাদ করতে পাছি। ধান যখন সিস হইছে তখন বাড়ি বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু ধান মাইর খাইছি। ফসল অনেক ভালো হওয়ায় এখন মনে আনন্দ লাগছে। বউ বাচ্চার মুখে হাসি আছে এবং শান্তিতে ভাত খেতে পারবো কিছু ধান বিক্রি করতে পারবো।’

আউশের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

আজাহার আলী মুন্সি জানান, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। এ বছর বাড়ি বৃষ্টি হওয়ায় কারনে চাষাবাদ দেরিতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় জমিতে চাষাবাদ করা যায়নি। এই বছর  তুলনামূলক উঁচু জমিতে আমরা আউশ ধান ভালো চাষ করতে পারি নায়।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ  অধিদফতর বরগুনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুর রশীদ বলেন, এবছর জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক আউশ ধান ফলন হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা খুশি হয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ফসল উৎপাদনের সব ধরনে সহযোগীতা করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!