ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হাইমচরে সুপারির বাম্পার ফলন, দামে সন্তোষ

মাজহারুল ইসলাম অনিক, চাঁদপুর
প্রকাশিত: ১৬:০১, ১৬ অক্টোবর ২০২১
হাইমচরে সুপারির বাম্পার ফলন, দামে সন্তোষ
হাইমচরে সুপারির বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষি-বাগান মালিকরা

পান-সুপারির জন্য বিখ্যাত চাঁদপুরের হাইমচর। এ উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী। এবার হাইমচরে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় খুশি বাগান মালিকরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস সুপারির ভরা মৌসুম। তবে এবার সময়ের আগেই আশ্বিন মাসের শুরুর দিকে বাজারে সুপারি আসতে শুরু করেছে। প্রধান মোকাম উপজেলা সদরের আলগী বাজার, জনতা বাজার, হাইমচর বাজার, চরভৈরবী বাজার, কাটাখালী বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে জমে উঠেছে সুপারির ব্যবসা।

হাইমচরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে নিজেদের চাহিদামতো সুপারি সংগ্রহ করছেন। এ বছর প্রতি পোন (৮০টি) সুপারি মানভেদে ১০০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর দাম কিছুটা বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

Advertisement

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হাইমচরে বর্তমানে ৪৫০ হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। এসব বাগানে এ বছর উৎপাদিত হয়েছে ৮ হাজার ৮০০ টন সুপারি। এ মৌসুমে উৎপাদিত সুপারির বাজার মূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ জনপদের বেশিরভাগ বাড়ির আঙ্গিনায় সুপারির গাছ আছে। এছাড়া এলাকাজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সুপারি বাগান। এসব বাগানে উৎপাদিত সুপারিকে ঘিরে এ অঞ্চলে দেখা দিয়েছে অপার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। বাজার দর ভালো থাকায় দিনদিন সুপারি চাষে আগ্রহ বাড়ছে এখানকার মানুষের।

চরভাঙ্গা এলাকার সুপারি চাষি জহির আখন্দ জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতা এবং তদারকির কারণে সুপারি গাছে রোগবালাই কম ও ফলন বেশি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তবে একটি সুপারি প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র থাকলে সারাবছর বাজারে ন্যায্য দামে সুপারি বেচাকেনা হতো। এতে সুপারি চাষি ও বাগান মালিকরা ন্যান্য দাম পেতেন।

হাইমচর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবব্রত সরকার জানান, সুপারি হাইমচরের ঐতিহ্য। আর পান-সুপারির জন্য এ জনপদ বিখ্যাত। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সুপারি চাষ, পরিচর্যা, ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষি বিভাগ চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছে। সুপারি বাগান করার মধ্য দিয়ে এখানকার চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সুপারির দাম কিছুটা বেশি। এতে খুশি চাষিরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!