চৈতীর প্রেম-বিয়ে-মৃত্যু, বাবার দাবি ‘পরিকল্পিত হত্যা’
ভোলার চরফ্যাশনে শাশ্বতী রায় চৈতী নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শাশ্বতী রায় চৈতী চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র রায়ের মেয়ে। নিহত চৈতীর বাবার দাবি, তাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে।
শুক্রবার রাত ২টার দিকে চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হরিবাড়ী এলাকার সমির চন্দ্র মজুমদারের বাসা থেকে চৈতীর লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।
চরফ্যাশন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের স্বামী বোরহানউদ্দিন উপজেলায় কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনোজ কুমার চন্দ্র (শাওন) ও শ্বশুর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমির চন্দ্র মজুমদারকে আটক করা হয়েথেছ
.png)
রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি দিয়ে ঝোলানো শাশ্বতী রায় চৈতীর উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে এটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ দাবি করে চৈতীর বাবা সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমার মেয়ে মাস্টার্সের ছাত্রী। সমির চন্দ্র মজুমদারের ছেলে শাওন প্রথমে আমার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে। পরে আমরা উভয় পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দুজনের বিয়ে দিই। মেয়েকে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামী দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছে। তারা যৌতুকের টাকা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে মেয়েকে হত্যা করেছে। দেশের প্রচলিত আইনে এ হত্যার বিচার চাই।’
চৈতীর স্বামী মনোজ কুমার মজুমদার (শাওন) বলেন, ‘আমি তজুমদ্দিন উপজেলার একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে রাত ১টার দিকে বাসায় এসে একাধিকবার রুমে দরজা নক দিলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে দেখি ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে চৈতী আত্মহত্যা করেছে।’
এ ঘটনায় শাশ্বতী রায় চৈতীর বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলার এজাহার জমা দেন বলে জানা গেছে।
চরফ্যাশন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন সাহা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।