দীর্ঘ ১০ বছর পর এ চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রহস্য বের করল খুলনা জেলা পিবিআই। সোমবার রাতে এ মামলার অর্থের জোগানদাতা ও পরিকল্পনাকারী বাহাউদ্দিন খন্দকারকে গ্রেফতার করে পিবিআই।
মঙ্গলবার দুপুরে পিবিআই খুলনার মুখপাত্র পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
.png)
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাহাউদ্দিনকে মহানগরীর বয়রা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বাহাউদ্দিন ঐ এলাকার আব্দুস ছাত্তার খন্দকারের ছেলে। জাকির মুহুরির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বাহাউদ্দিন। তাছাড়া ভিকটিমের তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এটা জানতে পেরে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। একপর্যায়ে বাহাউদ্দিন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে।
এক সময়ে সুযোগও এসে যায়। ভাড়াটে খুনি ঠিক করে বাহাউদ্দিন। ২০১২ সালের ২০মে সন্ধ্যায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার চেম্বারের সামনে যায়। অফিস বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতির সময় সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে। বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। মারত্মক জখম অবস্থায় মার্কেটের অন্যান্য সদস্যরা তাকে নিয়ে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অবস্থা খারাপ হলে তাকে যশোর সিএমএইচ-এ প্রেরণ করা হয়। পথে তিনি মারা যান। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মুশফিকুর রহমান আরো বলেন, ঘটনার দু’দিন আগে বাহাউদ্দিন নেপালে চলে যায়। পাঁচ দিন পর তিনি দেশে ফেরেন। ফিরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে গ্রেফতারসহ হয়রানি না করার জন্য মিস পিটিশন মামলা করেন। মামলা করে সময় বর্ধিত করে আসছিল তিনি। ঐ মিসপিটিশনটি দীর্ঘ শুনানি শেষে গতবছর ২০২১ সালে নিস্পত্তি করা হয়। নিস্পত্তি আদেশ পাওয়ায় সোমবার রাতে বয়রা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলাটি পিবিআই এর আগে খুলনা সদর থানা পুলিশ, পরে ডিবি, এরপর সিআইডি গ্রহণ করে। সাত বছর তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। পরবর্তীতে বাদীর না রাজি পিটিশনে মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত পিবিআইকে নির্দেশ দেয়। বাহাউদ্দিন গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আছে এমন আরো এক ব্যক্তির নাম বলেছে। তাকে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই। ২০১৯ সালে মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইয়ের এসআই পলাশ চন্দ্র রায়।