ফেসবুকে ‘লাইভে’ এসে ক্ষোভের কারণও তুলে ধরেন। তবে পুলিশের তৎপরতায় বেঁচে গেল তিনটি প্রাণ। দীর্ঘ সময় কাউন্সিলিং করে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলে নিবৃত্ত হন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার এ যুবক।
শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক কারণে পুলিশ ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানান।
.png)
ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত দত্ত বলেন, শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ৯৯৯-এ বিষয়টি জানান ওই যুবকের এক বন্ধু। পরে ওই যুবকের নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দীর্ঘ প্রায় ৪৫ মিনিট কাউন্সিলিং করে তার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এতে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তার সন্তানদের নিয়ে ফতুল্লা থানায় চলে আসেন।
এসআই সুকান্ত আরো বলেন, দুই সন্তানসহ ওই যুবককে মৃত্যুপথ থেকে বাঁচিয়ে তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকেও খবর দেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ সময় আলোচনা শেষে রাত ১১টায় তাদের মধ্যে সমাঝোতা করে দেওয়া হয়। সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় তাদের নাম পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
লাইভে আসা যুবক জানান, ১০ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। কিছুদিন আগে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন। পরে শ্বশুরের দ্বারস্থ হলেও তিনি তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে তিনি সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন।
যুবক আরো জানান, স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার কোনো সুরাহা না পেয়ে তিনি ছেলে-মেয়েসহ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী অজ্ঞাত স্থানে একটি রুম ভাড়া নেন। সেখানেই এক সঙ্গে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা ছিল। শহরের কালিরবাজার থেকে কেনা হয়েছিল তিনজনের জন্যই কাফনের কাপড়।
ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান বলেন, আমার কর্ম জীবনের সবচেয়ে ঝুঁকির দিন ছিল এটি। বেশ কৌশলে বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে তিনজনকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এটা আমার কর্মজীবনে সবচেয়ে বড় সফলতা বলে মনে করি।