রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার। এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ডেমরা থানার ডগাইর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার রোকন হাটহাজারী উপজেলার চিকনদন্ডী এলাকার মোহাম্মদ শফির ছেলে।
র্যাব জানায়, বিআরটিসি বাসের টেন্ডার বিরোধের জেরে ২৫ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারীর নতুনপাড়া মোবারক সড়ক এলাকায় দিদারের নেতৃত্বে রুবেলের মাথা, বুক-পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে একদল সন্ত্রাসী। আহত রুবেলকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের মা।
.png)
র্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার বলেন, মামলার পর জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়াতদন্ত শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ডেমরা থানার ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম প্রধান আসামি শাহাদাত হোসেন ওরফে রোকনকে গ্রেফতার করা হয়।
হত্যার পর ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন রোকন। একপর্যায়ে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। কিন্তু সেখানে নিরাপদ মনে না করায় ডেমরা থানা এলাকায় গিয়ে একটি বেকারিতে কাজ শুরু করেন।
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেন রোকন। তিনি জানান- বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে গাড়ি লীজ নিয়ে ব্যবসা করতেন রুবেল। আসামিরাও একই ব্যবসা করতেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি বাসের টেন্ডার নিয়ে রুবেলের সঙ্গে দিদারের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে ওই রাতেই দিদার ফোন দিয়ে রুবেলকে নতুনপাড়া মোবারক সড়কে ডেকে নেন। এরপর সেখানেই দিদারের নেতৃত্বে মাসুদ, রোকনসহ তাদের আরো পাঁচ সহযোগী মিলে দেশীয় ধারালো অস্ত্র (কুড়াল, চাপাতি ও চাকু) দিয়ে রুবেলকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে রোকনকে হাটহাজারী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার।