ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

‘কথা আছে’ বলে আটকে দেন দরজা, একা হতেই ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরেন শিক্ষক

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:১০, ২৫ মার্চ ২০২২
‘কথা আছে’ বলে আটকে দেন দরজা, একা হতেই ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরেন শিক্ষক
অভিযুক্ত শিক্ষক আরিফুল ইসলাম জনি

শিক্ষকের কুপ্রস্তাব আর নোংরা ইঙ্গিতে অতিষ্ঠ হয়ে কোচিংয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেন দশম শ্রেণির ছাত্রী। দিন পনেরো আগে ফের কোচিং করার পরামর্শ দেন শিক্ষক। একই সঙ্গে আগের মতো আচরণ না করারও প্রতিশ্রুতি দেন। আশ্বস্ত হয়ে কোচিং করা শুরু করেন সেই শিক্ষার্থী। কিন্তু কথার সঙ্গে কাজের মিল ছিল না শিক্ষকের। এবার শিক্ষার্থীর সর্বনাশ করেই ছাড়লেন। যদিও অল্পের জন্য নিজের সম্ভ্রম রক্ষা পেল।

ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম জনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ৩৫ বছর বয়সী আরিফুল রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদা চারঘাট মিয়াপুরের মো. দুলাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, ফতুল্লার ইসদাইর গাবতলীস্থ রুহুল আমিন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন আরিফুল। তিনি ফতুল্লার সস্তাপুর কমর আলী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক। পাশাপাশি সপ্তাপুরস্থ জামাল ফ্ল্যাটে তার কোচিং সেন্টার রয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, তিনি দশম শ্রেণিতে পড়ছেন। তবে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং করছিলেন। কিন্তু কোচিংয়ে প্রায়ই কুপ্রস্তাব দিতেন শিক্ষক আরিফুল। বিষয়টি সাত মাস আগে তার স্ত্রীকেও জানানো হয়েছিল। তবে আমলে না নিয়ে উল্টো তাকে দোষারোপ করেন। এরপর আর কোচিংয়ে যাননি তিনি।

তিনি আরো জানান, ১৪-১৫ দিন আগে স্কুলে গেলে তাকে ডেকে নেন আরিফুল। এ সময় কোচিং না করলে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করবেন না বলে জানান। এছাড়া আগের মতো সেই আচরণ করবেন না বলেও জানানো হয়। তার কথায় ১৫ মার্চ কোচিং করা শুরু করেন তিনি। ২৪ মার্চ বিকেলেও কোচিংয়ে যান। কিন্তু কোচিং শেষে কথা আছে বলে তাকে থাকতে বলেন আরিফুল।

এরপর সবাই চলে গেলে দরজা বন্ধ করে তাকে জড়িয়ে ধরে স্পর্শকাতর স্থানে হাত বোলাতে থাকেন শিক্ষক আরিফুল। একপর্যায়ে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এলে আরিফুল কৌশলে পালিয়ে যান।

ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার শিক্ষক আরিফুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!