মৃত আব্দুর রশিদ একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরজংলা গ্রামের আলী আহম্মদ ফরাজির ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে আব্দুর রশিদের বাবা আলী আহম্মদ ফরাজি বাদী হয়ে উপজেলার দুলারহাট থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্বশুরবাড়ি নীলকমল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দালাল বাড়িতে সোমবার দুপুরে ছোট মেয়ের বিয়ের কথা নিয়ে আব্দুর রশিদ ও তার স্ত্রী আমিরুন বিবির মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। পরে বিকেলে ঘরের আলাদা রুম থেকে মুখে ইঁদুর মারার কীটনাশকসহ আব্দুর রশিদকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে দুলারহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরে তাকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
.png)
মৃত আব্দুর রশিদের ভাই মো. সবুজ ফরাজি বলেন, আমার ভাই শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ের সময় তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। তাকে দুইবার মারধর করা হয়েছিল। এখন ছোট মেয়ের বিয়ের কথা চলছে। তা নিয়েও তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝামেলা চলছিল। গতকাল মেয়ের বিয়ে নিয়ে ঝামেলা করে আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করে তার মুখে বিষ দিয়ে নাটক সাজিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
তিনি বলেন, আমার ভাই যদি বিষ খাইতো, তার মাথা ফেটে রক্ত বের হতো না, তার হাত ফাটা থাকতো না। আমরা তার পিঠে মাইরের অসংখ্য দাগ পাইছি। আমার ভাইকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি।
দুলারহাট থানার ওসি মুরাদ হোসেন জানান, গতকাল বিকেলে নীলকমল ইউনিয়ন থেকে কীটনাশক পানে আব্দুর রশিদ নামে এক লোক আত্মহত্যা করেছে- এমন খবরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বলা যাবে এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মৃত আব্দুর রশিদের বাবা আলী আহম্মদ ফরাজি বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।