ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নিজ ঘরে ফাঁস দিলেন আয়েশা, ওড়নায় পেঁচানো লাশ মিলল দেবরের ঘরে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:১৬, ৯ এপ্রিল ২০২২
নিজ ঘরে ফাঁস দিলেন আয়েশা, ওড়নায় পেঁচানো লাশ মিলল দেবরের ঘরে
নিহত আয়েশা আক্তার- ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিয়ের দুই বছর না যেতেই শ্বশুরবাড়িতে দেবরের ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় আয়েশা আক্তার নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঐ উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের বংশাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আয়েশা আক্তার ঐ এলাকার ডেকোরেশন ব্যবসায়ী মাহফুজুর ইসলামের স্ত্রী। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১০ মাস বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

Advertisement

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বছর দুয়েক আগে মাহফুজুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আয়েশা আক্তারের। তাদের ১০ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আয়েশার পরিবারের অভিযোগ- তার গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরার দাগ পাওয়া গেছে। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি ঐ গৃহবধূ মানসিক যন্ত্রণা থেকে আত্মহত্যা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মাহফুজুলের পাকা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় পেঁচানো অবস্থায় গৃহবধূ আয়েশার লাশ দেখতে পায় তারা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
 
নিহতের ভাই প্রবাসী মো. আবদুল কাদের বলেন, এ হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য তারা আমার বোনকে মানসিক রোগী বানাচ্ছে। কয়েকদিন আগেও আমি কথা বলেছি, আমার বোন সুস্থ ছিল। আমার বোনকে তার স্বামী, দেবর, ননদ যৌতুকের জন্য সারাক্ষণ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো।

তিনি আরো বলেন, আমার বোনের গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরার দাগ রয়েছে। তার লাশ পাওয়া গেছে দেবরের রুমে। তার নিজের রুমে আত্মহত্যা করে দেবরের রুমে গেল কিভাবে? দরজা খোলা রেখে কি কেউ নিজের গলায় ফাঁস লাগায়? আমার বোনের লাশ ঝুলানো অবস্থায় ছিল না, মেঝেতে পড়ে ছিল। তাদের গতিবিধি সবই সন্দেহজনক। এ কারণে সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য বের করতে পুলিশের সহযোগিতা চাই।

হাটহাজারী মডেল থানার এসআই মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। তবে ঐ গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে অব্যশই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!