এর আগে, স্থানীয় সাকিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এক পোশাককর্মীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত সাকিব ভূঁইয়া আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকার শাহ আলম ভূঁইয়ার ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৩-৪ মাস আগে অভিযুক্তের সঙ্গে পরিচয় হয় ভুক্তভোগীর। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা গড়ায় শারীরিক সম্পর্কে। বিয়ের প্রলোভনে প্রেমিকার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন সাকিব ভূঁইয়া। সম্প্রতি প্রেমিকা তাকে বিয়ের কথা বললে তিনি নানা টালবাহানা করতে থাকেন। এতে বাধ্য হয়ে মামলা করেন ভুক্তভোগী পোশাককর্মী। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মো. ফরিদুল আলম অভিযুক্তের সঙ্গে আঁতাত করে ঘটনার মীমাংসা করেন। এরপর মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) তাকে ফের ডেকে নিয়ে মামলা গ্রহণ করা হয়।
.png)
ভুক্তভোগী নারী জানান, গত ২১ মার্চ থানায় বসেই আড়াই লাখ টাকায় মীমাংসা করা হয়েছিল। গতকাল আবার তাকে থানায় ডেকে মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। এমনকি সাকিব ভূঁইয়াকে গ্রেফতারও করা হয়।
মীমাংসা করার পরও মামলা করার বিষয়ে ঐ নারী বলেন, এসআই ফরিদ ও কয়েকজন স্থানীয় লোক থানায় বসেই আমাকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে মীমাংসা করায়। তারা বলেন, মামলায় গেলে অনেক ঝামেলা অনেক খরচ, তুমি মীমাংসা করে নাও। এরপর সেই টাকা থেকে আমার কাছে খরচের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন তারা। আমি ৪০ হাজার টাকা দিয়ে চলে আসি।
ভুক্তভোগী আরো বলেন, সেদিনের পর থেকে আমি আমার মতোই ছিলাম। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আর কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইনি। মঙ্গলবার হঠাৎ করে এসআই ফরিদ আমাকে কল দিয়ে বলে- ‘বোন আমার চাকরিটা বাঁচাও, তুমি থানায় এসে একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে যাও।’ পরে আমাকে থানায় নিয়ে মামলা গ্রহণ করে। আমি যখন মামলা করতে চেয়েছি তখন টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করিয়েছে। সব ভুলে স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করেছি, তখনই আমাকে আবার ডেকে নিয়ে হেনস্তা করা হলো।
অভিযুক্ত এসআই ফরিদুল আলম বলেন, ঐ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমি, টাকা-পয়সা নিয়ে কোনো মীমাংসা করা হয়নি। আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।