শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে এদিন দুপুরে নিজ গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরেই তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা করেন তার স্ত্রী।
গ্রেফতার হওয়া ৪৪ বছর বয়সী রফিকুল উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের কোমারপুর শিয়ালগাড়ীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত ইবারত আলী।
.png)
ধর্ষণের শিকার ঐ গৃহবধূ থানায় মামলা করায় শুক্রবার সকালে তাকে মারধর করেছিলেন তার স্বামী রফিকুল। মারধরের একপর্যায়ে কেঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে ন্যাঁড়া করে দেন। শুধু তা-ই নয়, মাথার চুল কেটে দেওয়ার পরে ওই নারীকে গ্রামে ঘুরানো হয়। একইসঙ্গে অকথ্য ভাষায় তাকে গালিগালাজ করেন তার স্বামী। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে ওই নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ঐ গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে বুধবার রাতে দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ আছে একইদিন সকালে বড়ভাই ও দুপুরে ছোটভাই ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে, বুধবার রাতে নিজ গ্রাম থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল।
গ্রেফতাররা হলেন- ঐ উপজেলার কোমারপুর শিয়ালগাড়ী গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী দুলু ফকির ও ৩৫ বছর বয়সী আব্দুল হান্নান ফকির। তারা দুজনই আপন ভাই।
জানা গেছে, দুলু প্রায়ই ওই গৃহবধূকে নানাভাবে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তার প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছেলেন না গৃহবধূ। সর্বশেষ গত ১৭ মার্চ সকালে ওই গৃহবধূ বাড়িতে একা ছিলেন। এ সুযোগে দুলু ফকির তার বাড়ির গোয়লঘরে কৌশলে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে ওই নারী গোয়ালঘরে গেলে তার গলায় ধারালো চাকু ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন দুলু। পরে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যান দুলু।
এরপরেই ঐদিন দুপুরে গৃহবধূর ঘরে যান দুলুর ছোট ভাই আব্দুল হান্নান। তিনি গৃহবধূকে জানান দুলুর সঙ্গে তার ঘটে যাওয়া ঘটনা তিনি দেখেছেন। একথা সবাইকে বলে দেবেন। তবে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হলে বিষয়টি তিনি গোপন রাখবেন। তাদের আলোচনার একপর্যায়ে আব্দুন হান্নানও তাকে ধর্ষণ করেন। ফলে দুই ভাইয়ের ধর্ষণের শিকার হন ওই নারী। তবে জানাজানি হয়ে তার সংসার ভেঙে যেতে পারে এ ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন তিনি।
কিন্তু সম্প্রতি দুলু ফকির ওই নারীকে বারবার ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। অবশেষে বাধ্য হয়ে বুধবার রাতে আদমদীঘি থানায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন তিনি। বুধবার রাতেই অভিযান চালিয়ে নিজ গ্রাম থেকে আসামি দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ওই নারী থানায় মামলা করা পর থেকেই গ্রামের লোকজন বিভিন্ন ধরনের বাজে মন্তব্য করা শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রফিকুল তার স্ত্রীকে নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেন।
আদমদীঘি থানার ওসি মো. জালাল উদ্দীন জানান, স্বামীর নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ওই নারী থানায় মামলা করেন। মামলায় তার স্বামী রফিকুলকে আসামি করা হয়। পরে রফিকুলক আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।