ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বারবার উত্যক্তের পর ধর্ষণচেষ্টা, লোকলজ্জায় কিশোরীর বিষপানে আত্মহত্যা

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০০, ১৫ এপ্রিল ২০২২
বারবার উত্যক্তের পর ধর্ষণচেষ্টা, লোকলজ্জায় কিশোরীর বিষপানে আত্মহত্যা
কিশোরী লিপি

প্রায়ই রাস্তা-ঘাটে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল কিশোরীকে। তাও দুই বছর ধরে। প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছিল না ওই কিশোরী। একপর্যায়ে শুরু হয় তাকে উত্যক্ত করা।

বাধ্য হয়ে কিশোরীর বাবা বিচার চাইলেন গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে। কিন্তু মিলল না কোনো সুরাহা। এতে ঠিকই ক্ষিপ্ত হলেন উত্যক্তকারী। এক সকালে ফাঁকা বাড়িতে একা ছিল কিশোরী। ওই সুযোগে ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। অবশেষে লোকলজ্জায় বিষপানে আত্মহত্যা করেছে কিশোরী।

ঘটনাটি বগুড়া ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের কৈগাতি গ্রামে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওই কিশোরী।

Advertisement

এর আগে, গত ১২ এপ্রিল নিজ বাড়িতেই বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে লিপি। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল (কলেজ) শজিমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। শজিমেকে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে গত ১৩ এপ্রিল তাকে নেয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মৃত ১৭ বছর বয়সী কিশোরী লিপি ওই উপজেলার কৈগাতি গ্রামের কৃষক ফজলুল হকের মেয়ে। সে জালশুকা হাবিবুর রহমান ডিগ্রী কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পাশ করে। তার মৃত্যুর পর শুক্রবার সকালে ধুনট থানায় মামলা হয়েছে।

এর আগে, ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন কিশোরীর বাবা। অভিযোগে কিশোরীকে উত্যক্ত করা একই গ্রামের বাবুল মিয়া নামে এক যুবকসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। কিশোরীর মৃত্যুর পর ওই অভিযোগটিই মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

জানা গেছে, লিপিকে প্রায় দুই বছর ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়াসহ উত্যক্ত করে আসছিলেন বাবুল। এ বিষয়ে কিশোরীর বাবা গ্রামের মাতব্বরদের কাছে বিচারও দিয়েছিলেন। কিন্তু এতেও কোনো সমাধান মেলেনি। তবে বিচার দাবি করার পর থেকে বাবুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে গত ১২ এপ্রিল ওই কিশোরীর ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা করেন বাবুল। ওই সময় বাবুলের সঙ্গে ছিলেন তার সহযোগী একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম। বাবুলের ধর্ষণ চেষ্টার একপর্যায়ে কিশোরীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে পালিয়ে যান বাবুল ও রফিকুল। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় লোকলজ্জায় ঐদিনই নিজ বাড়িতেই বিষপান করেন লিপি। পরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।

কিশোরীর বাবা জানান, তার মেয়েকে প্রায়ই উত্যক্ত করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো সমাধান পাননি তিনি। প্রথম দিকে পাননি পুলিশি সহায়তাও। আর কারো মেয়ের জীবনে যেন এমন ঘটনা না ঘটে এজন্য জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তার।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, মেয়েটির বাবার করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!