অতীতের ন্যায় এবারও ঈদে নারীর টানে বাড়ি ফেরা বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত অংশের যাত্রীদের দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পরার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে এখনি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি করছেন বরিশালের সচেতন মহল।
লঞ্চ মালিকপক্ষ জানিয়েছে, ঈদে যাত্রী পরিবহনের জন্য বিশেষ সার্ভিস ছাড়াও ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলাচলকারী ২২টি বিলাসবহুল এবং বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটের ৩৫টি মিলে ৫৭টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে আরো লঞ্চ যুক্ত হতে পারে। এছাড়া বিশেষ সার্ভিস যাত্রীর চাপের ওপর ভিত্তি করে ঈদের তিনদিন আগ থেকে পরের সাতদিন পর্যন্ত চালু রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা ৫৭টি লঞ্চে সিঙ্গেল, ডাবল, ভিআইপি, সেমি ভিআইপি ও ফ্যামিলি ক্যাটাগরিতে দুই হাজারের বেশি কেবিন রয়েছে।
.png)
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজান শুরুর পর থেকেই সাধারণ যাত্রী ও তাদের স্বজনরা এসব কেবিন পেতে লঞ্চের অফিসগুলোতে বুকিং দিতে তদবির শুরু করেছেন। অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত বিআইডব্লিউটিএ’র কাছ থেকে পাওয়ার আগেই লঞ্চের কাউন্টারগুলো থেকে অন্যান্যবারের ন্যায় এবারও টিকিটের অনুকূলে স্লিপ বিতরণ শুরু করা হয়েছে।
সূত্র মতে, স্লিপ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে স্লিপ সংগ্রহকারীদের নামে কোনো কেবিন থাকে না। অর্থাৎ লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় যাকে ইচ্ছে কেবিন দিতে পারে। এ কারণে ঈদে নারীর টানে বাড়ি ফেরার নানা ঝামেলার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর যোগ হয় টিকিট পাওয়ার জন্য লবিংয়ের ধকল। ফলে যাত্রীদের ভরসা হয়ে ওঠে টিকিট কালোবাজারি চক্র।
বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল নদীবন্দরে টিকিট কালোবাজারিতে এরই মধ্যে দুটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৭ জন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। চক্র দুটি লঞ্চ কাউন্টারের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে নামে-বেনামে কেবিন বুকিং করে রাখছে। যে কারণে অন্যান্য বছরগুলোর ন্যায় এবারও বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ঈদ সার্ভিস শুরু হওয়ার পর দালাল চক্রকে প্রতি কেবিনে ২০০০-৩০০০ টাকা বেশি দিয়ে টিকিট ক্রয় করতে হবে।

এমভি সুরভী লঞ্চের কাউন্টার ইনচার্জ ফারহান ফেরদৌস বলেন, টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। এজন্য আমরা যাত্রীর নাম ঠিকানা রেখে স্লিপ দিচ্ছি। এরই মধ্যে যে পরিমাণ স্লিপ জমা পরেছে সেই পরিমাণ কেবিন দেওয়া অসম্ভব। ফলে লটারির মাধ্যমে কেবিন বিতরণের চিন্তা করেছি।
এমভি কীর্তনখোলা লঞ্চ কোম্পানির ম্যানেজার বেল্লাল হোসেন বলেন, আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে কেবিনের টিকিট ছাড়া হয়। পরে এসে টিকিট না পেয়ে অনেকে ক্ষুব্ধ হয়ে নানা অভিযোগ করেন। বাস্তবিক অর্থে টিকিট কালোবাজারির সুযোগ নেই।
এমভি সুন্দরবন লঞ্চের বুকিং অফিস ইনচার্জ জাকির হোসেন বলেন, টিকিটের কালোবাজারি ঠেকাতে গত ৬ এপ্রিল থেকেই আমরা স্লিপ নেয়া শুরু করেছি। স্লিপ অনুযায়ী যাত্রীদের টিকিট দেওয়ার চেষ্টা করবো।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস শুরু হতে পারে। এ জন্য ঢাকা-বরিশাল নৌপথে রোববার থেকেই লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
লঞ্চের টিকিট বুকিং কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন, ৬ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল রাত পর্যন্ত লঞ্চের কেবিন বুকিংয়ের আবেদন স্লিপ জমা নেয়া হয়েছে।
বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে বেসরকারি লঞ্চ এবং বিআইডব্লিউটিসি’র নৌযানের বিশেষ সার্ভিস আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হতে পারে। ঈদ পরবর্তী এক সপ্তাহ বিশেষ সার্ভিস অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি আরো বলেন, লঞ্চ কর্তৃপক্ষ অগ্রিম টিকিট বিক্রি করলেও তা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়। এ বছর এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি কবে নাগাদ অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করা হবে। তবে যতোদূর জেনেছি লঞ্চের কাউন্টার থেকে স্লিপ দেওয়া হচ্ছে।
টিকিট কালোবাজারি ও দালাল চক্রের বিষয়ের তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় টিকিটের দালাল আর কালোবাজারির সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। টিকিট কালোবাজারি আর দালাল প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ২/১ দিনের মধ্যে মাঠে কাজ শুরু করবে।