জানা গেছে, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে নিজ জিম্মায় মেয়েটিকে মুক্তি দেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম মেয়েটির জামিন মঞ্জুর করেন।
ফরিদপুরের নারী ও শিশুকিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক তাহমিনা জামান জানান, মেয়েটি সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে নিজেই ওকালতনামায় নামস্বাক্ষর করে। এরপর আদালত তাকে মুক্তি দেন। ২০১০ সালে মেয়েটি নিরাপদ হেফাজতে আসার পর মাঝখানে অসুস্থ ছিল। তাকে গাজীপুর ও ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে আবার সে ফরিদপুরের নিরাপদ হেফাজত কেন্দ্রে আসে। সে নিজের নামসহ সামান্য কিছু লিখতে পারে। কিছু হাতের কাজও শিখেছে। তাকে তার কাজের উপযুক্তস্থানে পুনর্বাসনের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি মেয়েটি একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ লাভ করুক।
.png)
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ব্লাস্টের ফরিদপুর জেলা শাখার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী জানান, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহৃদয়বান ব্যক্তি মেয়েটির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। মেয়েটি আপাতত সেখানেই গেছে। আমরা তার খোঁজখবর রাখব।
তিনি জানান, সম্প্রতি সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ব্লাস্টের নিজস্ব আইনজীবী অ্যাডভোকেট অর্চণা দাস মেয়েটিকে স্বাভাবিক জীবনে মুক্ত করতে কাজ শুরু করেন। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ সে মুক্তি পায়। তবে জীবনের দীর্ঘ সময় পরিবারের আদর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত মেয়েটির স্বাভাবিক মনোবিকাশ ঘটেনি। এজন্য সে কিছুটা ভারসাম্যহীনতার মধ্যে রয়েছে। এজন্য মুক্ত হয়েও আজ তার মাঝে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। সে ছিল ভাবলেসহীন।
ফরিদপুর জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. নুরুল হুদা বলেন, এভাবে পরিবার থেকে হারিয়ে যেয়ে অনেকে মেয়েই এখানে আসে। তাদের আবার উপযুক্তভাবে পুনর্বাসনেরও চেষ্টা করা হয়। এই দীর্ঘ সময়েও মেয়েটির সন্ধানে আসেনি কেউ।