ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাতলা খিচুড়ি ছাড়া ইফতার হয় না

আব্দুর রব, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১০:১২, ২৩ এপ্রিল ২০২২
পাতলা খিচুড়ি ছাড়া ইফতার হয় না
ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

পাতলা খিচুড়ি সিলেট অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় খাবার। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ এটি। সিলেটি রন্ধনশৈলীতে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে স্থান পেয়েছে। রোজায়  ইফতারিতে পাতলা খিচুড়ি এই অঞ্চলে বাধ্যতামুলক বলা চলে। এই খিচুড়ি তৈরিতে মুগ ডাল, খেসারি ডাল, মসুর ডাল, সুগন্ধি চালসহ নানাবিধ উপকরণ ব্যবহার করতে হয়।

মৌলভীবাজার শহরে  হোটেল ব্যবসায়ী ও শহরের প্রবীণ নাগরিকদের সরঙ্গ আলাপ করে জানা যায়, সিলেট অঞ্চলের সর্বত্র পাতলা খিচুড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসের ইফতারিতে সব শ্রেণি পেশার মানুষের ঘরে  ঘরে এই খিচুড়ির দেখা মিলবে। বাসা-বাড়িতে যেমন তৈরি হয় তেমনি বিভিন্ন হোটেল থেকে অনেকে কিনে নিয়ে যান।পাতলা খিচুড়ি দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটা শুধু চাল-পানি দিয়ে করা হয় যেটাকে 'জাউ' বলা হয় অন্যটা চাল-ডাল, পানি দিয়ে করা হয় বলে পাতলা খিচুড়ি বলে। সিলেটে পাতলা খিচুড়ি ও আখনি রমজান মাসে খুবই জনপ্রিয়।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

Advertisement

মৌলভীবাজার শহরের বড় বড় হোটেলগুলোতে দেখা যায়, বিশাল আকারের ডেকসিতে করে হোটেলের সামনে  রমজান মাসে সাজিয়ে রেখেছেন  খিচুড়ি । প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে প্রতিটি হোটেল ৩০ থেকে ৪০ কেজি পাতলা খিচুড়ি বিক্রি করতে পারেন।

জেলা শহরের একটি হোটেল কর্মচারী কয়েছ মিয়া বলেন, খিচুড়ি চুলা থেকে নামানোর এক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ কেজি খিচুড়ি আমরা বিক্রি করতে পারি।

হোটেল কর্মচারী রুহেল আহমদ বলেন, আমাদের হোটেলে পাতলা খিচুড়ি ও আখনি বেশি চলে। তাই এগুলো বেশি করে তৈরি করা হয়।

কর্মচারী লালন সরকার বলেন, শুধুমাত্র রমজান মাসে ইফতারিকে লক্ষ্য করে আমাদের হোটেলে এই খিচুড়ি তৈরি করা হয়, রমজান মাস ছাড়া তৈরি করা হয় না।

হোটেল  ম্যানেজার সাঈদ মোহাম্মদ বলেন, মানুষ বাসাবাড়িতে নানা ধরনের ইফতারি তৈরি করে, পাতলা খিচুড়ি অনেকে তৈরি করে, কিন্তু আমাদের এখানে স্বাদ বেশি হয় বলে মানুষজন কিনে নিয়ে যায়। প্রতিদিন খিচুড়ি সবার আগে শেষ হয়ে যায়।

ক্রেতা মনি আক্তার বলেন, এই খিচুড়ি আমরা বাসায় তৈরি করি। যেদিন বাসায় তৈরি করি না তখন হোটেল থেকে নেই। হোটেলের খিচুড়ি অনেক স্বাদ হয় বাসার চেয়ে,  দাম ও তুলনামূলক সস্তা।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মহসীন পারভেজ বলেন, সিলেট অঞ্চলে পাতলা খিচুড়ি অথবা জাউ দুইটার মধ্যে একটা ইফতারিতে থাকবেই। আমি প্রতিদিনের ইফতারিতে খিচুড়ি খাই। এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। মূলত সারাদিন রোজা রেখে নরম কিছু খেলে শরীরের জন্য ভালো, শরীরে শান্তি পাওয়া যায়, চলাচল করতে সুবিধা । এজন্য এই অঞ্চলের মানুষ পাতলা খিচুড়ি ইফতারিতে বাধ্যতামূলক রাখে।

মৌলভীবাজার শহরের হোটেল মালিক মশিউর রহমান বলেন, আমরা ইফতারির জন্য ২০ থেকে ২৫ ধরনের আইটেম করে থাকি। এর মধ্যে অন্যতম হলো পাতলা খিচুড়ি ও আখনি।  এক এক এলাকার এক একটা ঐতিহ্য, প্রথা বা অভ্যাস থাকে, এই অঞ্চলে ইফতারির জন্য পাতলা খিচুড়ি ও আখনি জনপ্রিয়। তাই এ দুটি আইটেম আমরা বেশি তৈরি করি এবং বিক্রিও ভালো হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!