শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার।
গ্রেফতার বাবর ওই উপজেলার নাইখাইন গ্রামের আবু তালেবের ছেলে এবং উপজেলা সদরের চার নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তার দুই সহযোগী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদের চৌধুরীও একই গ্রামের বাসিন্দা।
.png)
র্যাব জানায়, এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বাবর। গত ১৮ এপ্রিল পটিয়ায় স্থানীয় দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব ও দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে থাকেন তিনি।
বাবরের অপকর্মের কারণে আতঙ্কিত এলাকার মানুষ এবং তার কাছে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবরুদ রয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার গৈরালারটেক বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি এলজি ও নয় রাউন্ড গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের নাইখাইন গ্রামের বাড়িতে আরো আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান বাবর। এরপর তাকে নিয়ে সেখানে অভিযানে যায় র্যাব। অভিযান চলাকালীন উদ্দেশ্যমূলকভাবে চিৎকার চেচামেচি শুরু করেন বাবর। ওই সময় বাবরের দুই সহযোগী মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদেরসহ আরো অন্তত ৫-৬ জন লোক জড়ো হয়ে লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে র্যাবের কাজ তথা সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং বাবরকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে তারা র্যাবকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন এবং বাবরও পালিয়ে যাওয়ার জন্য র্যাবের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। ওই সময় বাবরের সহযোগীদের ছোঁড়া ইটপাটকেলের আঘাতে র্যাবের এক সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গৈরালারটেক বাজার থেকে বাবরের দুই সহযোগী মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর ফের বাবরের নাইখাইন গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সেখান থেকে বাবরের নিজ হাতে বের করে দেওয়া একটি বিদেশি পিস্তল, একটি এলজি ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার বলেন, বাবর এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী। তার ভয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত থাকেন। তার বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় দুটি মামলা রয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তিনজনকে পটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।