গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে আরকা হোমসে মাতৃস্নেহে বেড়ে উঠছে তারা। বিজিএমইএ’র সহায়তায় শিশুগুলোর লেখাপড়াসহ পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অরকা-হোমস কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর হোসেনপুর গ্রামে অরকা-হোমস স্থাপিত হয়। নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঐ গ্রামের বাসিন্দা এসআইএম জাহান ইয়ারের প্রচেষ্টায় এটি গড়ে উঠে। প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলা দুটি এবং প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়।
.png)

এখানে উন্নত পরিবেশে ৫৬ জন শিশু বসবাস করছে। তাদের মধ্যে ৩২ জন ছেলে ও ২৪ জন মেয়ে। রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর থেকে তারা এখানে বসবাস করছে। এসব শিশু লেখাপড়া করছে অরকা হোমস ক্যাম্পাসে অবস্থিত হোসেনপুর মুসলিম একাডেমিতে। একাডেমিতে প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ছাত্রছাত্রী ও ২০ জন শিক্ষক রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে হোসেনপুর গ্রামে প্রকৃতিঘেরা পরিবেশে অবস্থিত অরকা হোমস। ভেতরে আবাসিক ভবন, স্কুল, মসজিদ ও খেলার মাঠ। আবাসিকের ভেতরে পরিপাটি কক্ষ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিছানাআসবাবপত্র। শিশুরা কেউ পড়াশোনা করছে, আবার কেউ খেলাধুলা। সবার মধ্যেই আনন্দ।
অরকা হোমসে মাতৃস্নেহে বেড়ে ওঠা রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার খেয়াডাঙ্গা গ্রামের সাগরিকা মিম জানায়, রানা প্লাজা ধসে সে মা জাহানারাকে হারিয়েছে। বাবা দুখু মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করে তাকে ভরণ-পোষণ দিচ্ছিল না। তিন বছর ধরে এখানে ভাল আছে মিম। সে দশম শ্রেণিতে পড়ছে। পড়াশোনা শেষ করে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় মিম।

অরকা হোমসের তদারকিতে নিয়োজিত মিল্লাত মণ্ডল বলেন, শিশুরা যেন বাবা-মায়ের স্নেহ পায়- সেজন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। এখানে খেলাধুলা ও বিনোদনসহ নানা ব্যবস্থা রয়েছে। ছেলে ও মেয়েদের পৃথক ভবনে রেখে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়।
অরকা হোমসের পরিচালক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী শিশুদের তদারকি করছেন। দুইজন চিকিৎসক সপ্তাহে দুইদিন এখানে এসে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এখানে লেখাপড়া শেষে প্রত্যেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
সামগ্রিক বিষয়ে এ কর্মযজ্ঞের মূল উদ্যোক্তা নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআইএম জাহান ইয়ার বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। ভভিষ্যতে এর পরিধি আরো বাড়বে।