ভয় দেখিয়ে নেন ওটিতে, সিজারের সময় কেটে ফেলেন মূত্রথলি
লক্ষ্মীপুরে গাইনি চিকিৎসক ফাতেমা রওশন জাহানের বিরুদ্ধে সিজারের সময় প্রসূতির মূত্রথলি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রক্ত সঞ্চালনের কয়েকটি রগও কেটে ফেলেন এ চিকিৎসক।
এছাড়া জরায়ুর পরিবর্তে কাটা মূত্রথলি দিয়ে নবজাতককে বের করার চেষ্টা করা হয়। এতে তার মাথায় জখম হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মা ও শিশুকে নোয়াখালীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রসূতির নাম শারমিন আক্তার রিমা। ২৪ বছর বয়সী রিমা সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের কাশারী গ্রামের ওমান প্রবাসী আশেক এলাহী সবুজের স্ত্রী।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন ও চন্দ্রগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রসূতির স্বামী সবুজ। এতে চিকিৎসক রওশন জাহান, অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ইনচার্জ বিলকিছ আক্তারসহ অজ্ঞাত আরো পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
অভিযুক্ত রওশন জাহান সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী বাজার আলহাজ সামছুল হুদা আধুনিক মা ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক। তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ার উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী। অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ইনচার্জ বিলকিছ টাঙ্গাইলের ধানবাড়ী উপজেলার তোহরা গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের স্ত্রী।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, ২৩ এপ্রিল প্রসব ব্যথা শুরু হলে রিমাকে আলহাজ সামছুল হুদা আধুনিক মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করেন সবুজ। প্রথম থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য চেষ্টা করতে বলা হয়। কিন্তু কৌশলে ভয় দেখিয়ে সিজারের জন্য চাপ দেন চিকিৎসক রওশন ও বিলকিস। চাপের মুখে উপায় না পেয়ে সবুজসহ পরিবারের লোকজন রাজি হন।
প্রসূতির স্বামী সবুজ জানান, সিজারের সময় তার স্ত্রীর মূত্রথলি কাটা যায়। তাৎক্ষণিক রক্ত বন্ধ না করে চিকিৎসক মূত্রথলি আরো কাটে। এ সময় কয়েকটি রক্ত সঞ্চালন রগ (শিরা) কাটা যায়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এর মধ্যে নবজাতককে জরায়ুর পরিবর্তে মূত্রথলি দিয়ে জোর করে বের করার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি দেখে চিকিৎসক হুমায়ুন কবির শান্ত নিষেধ করেন। পরে শান্তর সহযোগিতায় সিজার সম্পন্ন হয়। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রিমার ও জোরপূর্বক প্রসবে নবজাতকের মাথায় জখম হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালটির দুই দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, সিজার করাতে পারলেও রওশন জাহানের পর্যাপ্ত ডিগ্রি নেই। শিরাসহ মূত্রথলি কেটে ফেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। এটা দায় এড়াতে স্থানান্তর (রেফার) নোটে তিনি রোগীর সমস্যার কথা লিখেছেন। মূলত রোগীর কোনো সমস্যা ছিল না।
চিকিৎসক হুমায়ুন কবির শান্ত বলেন, জরায়ু ও মূত্রথলি পাশাপাশি প্রসবের চাপ বেশি ছিল। কিন্তু জরায়ুর মুখ ছোট থাকায় নবজাতক আটকে যায়। এ সময় চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করতে গেলে মূত্রথলি কাটা যায়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। দেখতে পেয়ে আমি সিজার করতে সহযোগিতা করেছি।
চিকিৎসক ফাতেমা রওশন জাহান বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সত্য নয়। বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে দেখা করে কথা বলব। তবে প্রশাসনিক দফতরে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানা নেই। প্রসূতি ও নবজাতক সুস্থ আছে বলে আমি জানতে পেরেছি। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মোসলেহ উদ্দিন জানান, অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।