ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:০০, ৩০ মে ২০২২
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও মুঠোফেনে ভিডিও ধারণ করা প্রভাষক মুরাদুজ্জামান মুকুলের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও মুঠোফেনে ভিডিও ধারণ করা সেই প্রভাষক মুরাদুজ্জামান মুকুলকে চাকরি থেকে সাময়িক বহিষ্কারের পর এবার তার ফাঁসির দাবি উঠেছে।

সোমবার দুপুরে বগুড়ার ধুনট উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে মানববন্ধন, মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে তার ফাঁসির দাবি তোলা হয়।

উপজেলা বিএম টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ওই কর্মসূচিতে দশটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় তাদের বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

Advertisement

আরো পড়ুন >>>  চাচাতো ভাইয়ের ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল শিশুর

প্রায় ঘণ্টাব্যাপি চলা কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএম টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রভাষক জাহিদুল ইসলাম। এতে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আব্দুস ছালাম, রুবেল হোসেন, প্রভাষক সাইদুজ্জামান, তোজাম্মেল হক, রাজু আহম্মেদ, জিয়াউল হক, বিউটি রানী, শিরিন আকতারসহ আরো অনেকে। বক্তারা প্রভাষক মুরাদুজ্জামান মুকুলের সর্বোচ্চ শান্তি ফাঁসির দাবি জানান।

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও মুঠোফেনে ভিডিও ধারণ করা প্রভাষক মুরাদুজ্জামান মুকুলের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

৪৮ বছর বয়সী মুকুল বগুড়া ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউপির শৈলমারি গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি ধুনটের জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক। তবে তিনি ধুনট পৌর এলাকার দক্ষিণ অফিসারপাড়া এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে পরিবারসহ থাকতেন। সেখানেই দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন মুকুল।

আরো পড়ুন >>> এক এক করে পানিতে তলিয়ে গেল ৩ শিশু, গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ভাড়া বাসায় থাকছিলেন মুরাদুজ্জামান মুকুল। তার স্ত্রীও স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বাড়িওয়ালা দম্পতিও চাকরিজীবী। মা-বাবা চাকরিজীবী হওয়ায় বাসায় একাই থাকতেন দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে। মুকুলও একাই সময় কাটাচ্ছিলেন। এর মধ্যেই বাড়িওয়ালার মেয়ের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন তিনি। তবে বাড়িওয়ালার মেয়ের প্রতি মুকুলের কুনজর ছিল। এক পর্যায়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সুযোগমত মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে কিছু ছবিও তুলে রাখেন মুকুল। আর এসব ছবিই কাল হলো বাড়িওয়ালার মেয়ের। বিভিন্ন অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিগুলো ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে চলতি বছরের গত ৩ মার্চ তার বাসায় কেউ না থাকায় মেয়েটিকে নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন মুকুল। শুধু তা-ই নয়, মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন আপত্তিকর দৃশ্যও। এরপর ছবি আর ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে মেয়েটির সঙ্গে একাধিকবার ঘনিষ্ঠ হন মুকুল।

আরো পড়ুন >>> নরসিংদী রেলস্টেশনে তরুণীকে হেনস্তাকারী সেই নারী গ্রেফতার

সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ এপ্রিল সকালে ভাড়া বাসায় মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। ওই সময় মেয়েটির চিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে এলে কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে যান মুকুল। পরে আর বাসায় ফেরেননি। তবে ওই ঘটনার পরপরই মুকুলের পরিবারকে বাসা থেকে বের করে দেয় মেয়েটির পরিবার। পরবর্তীতে ১২ মে সকালে ধুনট থানায় মুকুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় মুকুলকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করার কথা স্বীকার করেন মুকুল। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লায়লা খাতুন জানান, গত ২৪ মে অনুষ্ঠিত কলেজ পরিচালনা কমিটির সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রভাষক মুরাদুজ্জামান মুকুলকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আদালতের রায়ে তিনি দোষী প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: বগুড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!