প্রধান শিক্ষকের যত ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার দেবরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামছুল আলম হেলালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এর প্রতিবাদে সোমবার (৩০ মে) সকাল ১০টায় স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। এ সময় প্রধান শিক্ষককে দ্রুত অপসারণ করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নিবাহী কমকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
.png)
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুনজুর রহমান, সাবেক সভাপতি মামুনুর রশীদ, বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম পল্টন, আব্দুর রহিম ও আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
মাবনবন্ধনে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুনজুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছে মতো স্কুল পরিচালনা করেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কমিটিতে নিজের ছোট ভাই ও ভাতিজা বউকে সদস্য করেছেন। গত দুই বছর তিনি কমিটির সদস্যদের নিয়ে কোনো ধরনের মিটিং করেননি। ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত শিশু স্লিপ ও ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দকৃত অর্থের কোনো হিসাব দেননি। কোনো ক্লাস না দিয়ে নিজের মতো করে স্কুলে আসা যাওয়া করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।
স্থানীয় গ্রামবাসী আব্দুর রহিম বলেন, প্রধান শিক্ষক ক্লাস নেন না। বাচ্চাদের সঙ্গেও মাঝে মাঝে অকারণে খারাপ আচরণ করেন। এগুলোর প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো আমাদের হুমকি দেন।
আনোয়ার হোসেন নামের অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে রাব্বি হোসেন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। কিছুদিন আগে স্কুলের একটি দেয়াল ঘরি ভেঙে যায় আমার ছেলের হাত থেকে পড়ে। ৫০০ টাকা জরিমানাও দিয়েছিলাম। তবুও আমার ছেলের কানে থাপ্পর মেরেছিলেন প্রধান শিক্ষক। যার কারণে কান দিয়ে খুব রক্ত বের হচ্ছিল। পরে ডাক্তার দেখানোর পর ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়েছে। এমন নোংরা মানসিকতার শিক্ষক আমরা চাই না।
স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বি হোসেন, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসাইন আল আবিরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, হেড স্যার আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেন। আমরা একটু চেঁচামেচি করলেই মারধর করেন এবং নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেন। স্যারের আচরণ ভালো না।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা সহকারী শিক্ষা কমকর্তা আব্দুর রউফ জানান, প্রধান শিক্ষকের নানা বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আমরা প্রতিবেদন জমা দিবো। এখন বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছেনা।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সামছুল আলম হেলাল বলেন, আমার বিষয়ে যে সব অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ সত্য নয়। কিছু কাজে বা স্কুল পরিচালনা করতে গেলে ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে। যা হয়তো আমার ক্ষেত্রে হয়েছে। যেহেতু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে তাই এখন এর বেশি কিছু বলতে চাই না। যদি প্রমাণিত হয় আমি দোষী তাহলে সেটি মাথা পেতে নিবো।