বুধবার বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীল কমল পালের নেতৃত্বে এ অভিযান চলে। এ সময় উদ্ধার করা হয় ঘুষের ৩ লাখ এক হাজার ২০০ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সমন্বিত কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. জাকারিয়া।
আটককৃত জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নি কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
.png)
দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দুর্নীতির খবর পুরনো। কার্যালয়টিতে নিয়মিত দলিল প্রতি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযানকালে দুদকের টিম তল্লাশি করে দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নির ড্রয়ার থেকে ৩ লাখ এক হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করেছে। তাৎক্ষণিক মুন্নি উক্ত টাকার উৎস সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বুধবার ঐ অফিসে ২৮৩টি দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য জমা পড়ে। তবে, বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোন ধরনের ফি/নগদ টাকা নেয়ার বিধান নেই। দলিল রেজিস্ট্রেশনের ফি পে-আর্ডারের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তাই প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকৃত অব্যাখ্যায়িত টাকা ঘুষের অর্থ বলে দুদক টিম নিশ্চিত হয়েছে।
আরো জানা গেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সুব্রত কুমার সিংহ; যার মূল পোস্টিং কুষ্টিয়ার সদরের সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে। অর্থ উদ্ধারের ব্যাপারে দুদক মামলা দায়েরের সুপারিশ করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করবে। মামলার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযুক্ত মুন্নিকে দৌলতপুর থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
দুদকের সমন্বিত কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. জাকারিয়া জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ছিল দুর্নীতির ‘আঁতুড়ঘর’ খ্যাত দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল সেখানে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দলিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেয়া হয়। বিষয়টি দুদক সদর দফতরকে অবহিত করে এখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বড়বাবু হিসেবে পরিচিত অফিস সহকারী জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নিকে ৩ লাখ এক হাজার ২০০ টাকা ঘুষসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।