আয়শারা বাবা আজিজুল হক জানান, তার জামাই মইনুদ্দিন ছিল মাদকাসক্ত। স্ত্রীর বেতনের টাকা সে পুরোটাই নিয়ে নিতো। গত দুই ধরে আয়শা তার বেতনের টাকা স্বামীকে দিতে অস্বীকার করায় তার উপর নির্যাতন করতে থাকে। কারাখনায় কাজের চাপ থাকায় আয়শার মাঝে মধ্যে বাড়ি ফিরতে দেরি হয়। এতেই সন্দেহ দেখা দেয় মইনুদিনের মনে।
আজিজুল হক বলেন, আমি নিজে ঢাকা গিয়ে বিষয়টি একবার মীমাংসা করে দিয়ে আসছি। কিছুদিন ভালো থাকার পর আবারো তাদের মাঝে কলহ দেখা দেয়। বিষয়টি তার মেয়ে তাকে জানার পর আমরা উভয় পরিবারের সদস্যরা মিলে দুজনের মধ্যে বিষটি মীমাংসা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এজন্য তাদের ঢাকা থেকে পীরগাছা গ্রামের বাড়িতে আসতে বলি।
.png)
উভয় পরিবারের সিদ্ধান্তে তারা তিন দিন আগে বাড়িতে আসে। শুক্রবার চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু মীমাংসার আগে বৃহস্পতিবার রাতে মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে মইনুদ্দীন বাড়িতে থাকা কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে তার মেয়েকে হত্যা করে। ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকার লোকজন তাকে ধরার জন্য তার বাড়িতে গেলে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে সে শুক্রবার সকালে গিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করে।
রংপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার ( পীরগাছা কাউনিয়া সার্কেল) আশরাফুল আলম পলাশ বলেন, মাইনুদ্দীন থানায় এসে স্ত্রীকে পরকীয়ার কারণে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে। সে এখন আমাদের কাছে আটক রয়েছে। এখনো মামলা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। যে অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে তা উদ্ধারের জন্য আমরা তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছি।