শুক্রবার বিকেলে মদন পৌরসভার মাস্টারপাড়া এলাকায় সালিশ বৈঠকে এ জরিমানা করেন ইউপি চেয়ারম্যান। তবে বিষয়টি না মেনে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ভুক্তভোগী কিশোরী।
অভিযুক্ত স্কুলছাত্রের নাম আজমাতুল। ১৫ বছর বয়সী আজমাতুল মদন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগদাইর গ্রামের হামিদ মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
.png)
স্থানীয়রা জানায়, জীবিকার তাগিদে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন ওই কিশোরীর বাবা। মেয়েটি পৌরসভার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছেন। একই স্কুলে লেখাপড়ার সুবাদে সাত মাস আগে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন আজমাতুল। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কিশোরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক মেলামেশা করেন।
সপ্তাহখানেক আগে বিয়ে করবেন বলে কিশোরীকে নিজ বাসায় নিয়ে যান আজমাতুল। ঘটনাটি পরিবারের লোকজন মেনে না নেয়ায় ঢাকায় চলে যান মেযেটি। কিন্তু ১ জুন ফের নিজ বাসায় নিয়ে আসেন আজমাতুল। বিয়ে না হওয়ায় দুজনই মাস্টারপাড়া এলাকায় একটি বাসায় আশ্রয় নেন। এ ঘটনায় কয়েক দফা সালিশ হলেও শুক্রবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এতে ছেলেকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন, স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে আমাকে বারবার প্রেমের প্রস্তাব দিতেন আজমাতুল। রাজি না হওয়ায় দুবার গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন। কয়েকবার আমার সামনে হাত কেটে ফেলেছেন। এসব দেখে ভয়ে প্রেমে জড়িয়ে পড়ি। এরপর থেকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আমার সঙ্গে একাধিকবার মেলামেশা করেন।
তিনি আরো বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমাকে নিজ বাসায় নিয়ে বিয়ের কথা বলেন। তার পরিবারের লোকজন আমাকে ভয় দেখান। খবর পেয়ে আমার পরিবারের লোকজন আমাকে ঢাকা নিয়ে যান। বুধবার ফের আমাকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসেন আজমাতুল। বিয়ের জন্য নিজ বাসায় নিলে তার মা আমাকে মারধর করেন। পরে আমাকে নিয়ে মাস্টারপাড়ায় একটি বাসায় ওঠেন। শুক্রবার বিকেলে আমার ইজ্জতের মূল্য ৪৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন চেয়ারম্যান। আমার মান-ইজ্জত নষ্ট করে টাকা দিয়ে ধামাচাপা দিতে চাইছেন। আমি এর বিচার চাই। নয়তো গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করবো।
কিশোরীর বাবা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমার মেয়েটির মান-সম্মান সব শেষ হয়ে গেছে। জরিমানার ৪৫ হাজার টাকা চেয়ারম্যানের কাছে জমা রয়েছে। তিনদিন পর টাকা দেবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আজমাতুলের পরিবারের লোকজনদের কাছে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি। তবে এসব কিছু অস্বীকার করে মদন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। এমন কোনো ঘটনার মীমাংসা আমি করিনি।
মদন থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।