ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘ফরহাদ আমাকে বাঁচা, আমি আগুনের মধ্যে আছি’

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:২৪, ৫ জুন ২০২২
‘ফরহাদ আমাকে বাঁচা, আমি আগুনের মধ্যে আছি’
ছবি: সংগৃহীত

‘ফরহাদ আমাকে বাঁচা, আমি আগুনের মধ্যে আছি’- এভাবেই ফোনে চাচাতো ভাই ফরহাদের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন মোমিনুল হক। কিন্তু তা আর হলো না। চিরবিদায়ই নিতে হলো মোমিনুল হককে। শনিবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে নিহত হন তিনি।

শনিবার রাত দেড়টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ইমারজেন্সি কেয়ারে মোমিনুল হকের লাশ ধরে কান্না করতে করতে তার শেষ কথাগুলো বলছিলেন ফরহাদ।

ফরহাদ বলেন, আমার ভাই মোমিনুল হক আমাকে বাঁচাতে বলেছিলেন, আমি বাঁচাতে পারিনি। আমার ভাই পড়ালেখার পাশাপাশি সেখানে চাকরি করতেন। গত কয়েকদিন আগে আমাকে বলেছিলেন, তুই বাড়ি কখন যাবি। তোকে সঙ্গে নিয়ে এবার বাড়ি যাবো। এখন ভাইকে সঙ্গে  নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু জীবিত নয়, মৃত।

Advertisement

নিহত মোমিনুল হকের চাচা খোরশেদ আলম বলেন, আমার বড় ভাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। সেখান থেকে অবসর নিয়েছেন৷ বড় ছেলে মহসিন কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স শেষ করে তিন-চার মাস আগে কম্পিউটার অপারেটার হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছে। সে মহসিন কলেজে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে। কিছুদিন পরে পরীক্ষা হবে। কিন্তু তার পরীক্ষা আর দেয়া হলো না।

নিহত মোমিনুল হক চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া এলাকার মাস্টার ফরিদুল আলমের ছেলে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিএম কনটেইনার ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতর আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একটি কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। 

বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থল থেকে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের অনেক বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ার খবরও পাওয়া যায়।

সর্বশেষ রাত সাড়ে ৩টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রাসায়নিক দ্রব্য থাকায় বারবার কনটেইনার বিস্ফোরিত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রায় চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ একের পর এক বোমার মতো কনটেইনার বিস্ফোরিত হচ্ছে। শুরুতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কনটেইনারের কাছাকাছি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে প্রায় দশজনের বেশি আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আগুন নেভাতে পানির স্বল্পতাও রয়েছে আমাদের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!