ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নাচ দেখে ‘পাগল’ হয়ে শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৫৬, ৬ জুন ২০২২
নাচ দেখে ‘পাগল’ হয়ে শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা
গ্রেফতারকৃত তিন বখাটে- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার তিশা আক্তার নামে এক শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তিন বখাটেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শিশু তিশার নাচ দেখে ‘পাগল’ হয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে বলে স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃতরা।

সোমবার দুপুরে পিবিআই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সিরাজ আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতরকৃতরা হলো- ঐ উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের স্বপন মণ্ডলের ছেলে গোবিন্দ মণ্ডল, আনন্দ মণ্ডলের ছেলে চঞ্চল চন্দ্র মণ্ডল ও লালিত সরকারের ছেলে বিজয় সরকার। বাসাইলের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement

পিবিআই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সিরাজ আমিন জানান, নিহত ৮ বছরের শিশু তিশা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। সে নাচে খুবই ভালো ছিল। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচের জন্য তার ডাক আসত। এমনই এক অনুষ্ঠানে তার নাচ দেখে আকৃষ্ট হয় প্রতিবেশী গোবিন্দ মণ্ডল, চঞ্চল চন্দ্র মণ্ডল ও বিজয় সরকার। এরপর তারা বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থের জন্য তিশাকে বিভিন্ন সময় নানা কায়দায় উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে।

তিনি আরো জানান, দুই মাস আগে মা শম্পা বেগমের কাছে বিষয়টি খুলে বলে শিশু তিশা। কিন্তু অভিযুক্তরা বখাটে ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় শম্পা বেগম তাদের কিছু বলতে পারেননি। এদিকে ঐ তিন বখাটে তিশা ও তার মায়ের ওপর নজর রাখতে থাকে। একদিন তিশাকে বাড়িতে একা রেখে তার ছোট ভাইকে স্কুল থেকে আনতে যান মা শম্পা। সেই সুযোগে বখাটেরা ঘরে ঢুকে তিশাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৬ মে সকালে তিশাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে গোবিন্দ মণ্ডল, চঞ্চল চন্দ্র মণ্ডল ও বিজয় সরকার। পরে তার মায়ের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। মা শম্পা বেগম বাড়ি ফিরে তিশাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনি আরো জানান, তিশাকে বহনকৃত অ্যাম্বুলেন্স গাজীপুর পর্যন্ত গিয়ে নষ্ট হলে তাকে সাভার এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ মে তিশা আক্তারের মৃত্যু হয়। ঐ দিনই বাসাইল থানায় অপমৃত্যু মামলার পর লাশটির ময়নাতদন্ত করা হয়। ৪ জুন ময়নাতদন্তের রির্পোটে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। ঐ দিনই তিশার বাবা আবু ভূঁইয়া বাসাইল থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।

পুলিশ সুপার সিরাজ আমিন বলেন, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই স্ব-উদ্যোগে তদন্তের উদ্যোগ নেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক খন্দকার আশরাফুল কবির তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেন। আসামিরা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি না দিলে মামলা তদন্তের স্বার্থে আদালতের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!