সোমবার নগর ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান নগর ডিবির ডিসি (উত্তর) মোহাম্মদ আলী হোসেন। এর আগে, খুলশী থেকে শওকত আলীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার শওকত আলী এমজিএইচ নামে একটি গ্রুপের নাসিরাবাদ শাখার ক্লিনার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
ডিসি মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, ২০১৩ সালে শওকত ও লিপি আক্তারের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের তিন থেকে চার বছর পর পুনরায় তারা একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করে আসছিলেন। পারিবারিক কলহের জের ধরে ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর ভাড়া বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রী লিপি আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন শওকত। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে কৌশলে অটোরিকশায় নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির তিন নম্বর রোডের অফিসে নিয়ে সেফটিক ট্যাঙ্কিতে ফেলে দেন।
.png)
পুলিশ কর্মকর্তা আলী হোসেন আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডটির কোনো প্রকার ক্লু না থাকায় অধিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। লাশটি বিকৃত, গলিত এবং দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাছাড়া আশপাশের সিসিটিভিতে দীর্ঘদিনের ফুটেজ সংরক্ষিত না থাকায় অপরাধীকে চিহ্নিত করাও সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলের পাশে থাকা এমজিএইচ গ্রুপের অফিসের সব স্তরের স্টাফদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তের অংশ হিসাবে সব স্টাফের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হয়। বেশিরভাগ স্টাফদের নজরদারিতে রাখা হয়। তন্মধ্যে কিছু স্টাফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। একপর্যায়ে শওকতের প্রাপ্ত তথ্য এবং সিডিআরে প্রাপ্ত তথ্য গরমিল পরিলক্ষিত হওয়ায় তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেন।
লিপি আক্তারের বাড়ি বরিশাল জেলায়। তার বিস্তারিত পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান ডিসি মোহাম্মদ আলী হোসেন।
২০২১ সালের ৯ নভেম্বর এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে ৭ এপ্রিল সেফটিক ট্যাঙ্কি পরিষ্কারের সময় অজ্ঞাত হিসাবে লিপি আক্তারের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা হয়। ২৯ মে মামলাটির তদন্তভার পায় নগর ডিবি পুলিশ।