শনিবার (২৫ জুন) রাত ১১টার দিকে ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ২৪ জুন দিনগত রাতে কুড়িগ্রাম থেকে শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন শনিবার বিকেলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর আসামি রিপন মিয়াকে একই দিন (শনিবার) বিকেলে ভালুকার জমিরদিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। রিপন মিয়াকে রোববার (২৬ জুন) দুপুরে আদালতে পাঠানো হবে।
.png)
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ওসি কামাল হোসেন জানান, শফিকুল ইসলামের বাড়ি কুড়িগ্রামে। তিনি ভালুকায় বসবাস করতেন। বেশ কয়েক বছর আগে সৎ মেয়ে মিনুকে মেনে নিয়ে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন শফিকুল। মাহমুদা আক্তার পোশাক কারখানায় চাকরি ও রফিকুল ভাঙারির ব্যবসা করতেন। মাহমুদা পোশাক কারখানায় চাকরি করে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা জমা করেন। ওই টাকা দিয়ে মেয়ে মিনুর নামে ডিপোজিট করার পরিকল্পনা করেন মা মাহমুদা।
বিষয়টি শফিকুল জানতে পেরে মাহমুদা আক্তারের কাছে টাকা চান। তবে, তিনি টাকা দিকে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল তার বন্ধু রিপনকে নিয়ে সৎ মেয়ে মিনুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৮ জুন মা মাহমুদা আক্তার বাড়িতে না থাকায় রাতে ঘুমন্ত মিতুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাশের জঙ্গলে ফেলে দেন। পরদিন রাতে ওই মরদেহ একই এলাকার কারখানায় বাউন্ডারির ভেতরে নিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখেন।
অন্যদিকে, মিনুকে চাপা দেওয়া মাটি বৃষ্টির পানিতে সরে গিয়ে তার পা বেড় হয়ে আসে। এভাবে ১৭ দিন পার হলে মরদেহ পুরোটাই ভেসে উঠে। পরে স্থানীয়রা বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে ভালুকা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরে শফিকুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিপন মিয়াকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।