রোহিঙ্গা সালামতের আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক
আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সংগঠিত করছেন রোহিঙ্গা জঙ্গি শাইখ সালামত উল্লাহ। একইসঙ্গে কোটি কোটি টাকার বিদেশি অর্থ লোপাট করছেন সালামত এবং তার সহযোগীরা।
জানা গেছে, রোহিঙ্গা জঙ্গি নেতা শাইখ সালামত উল্লাহ এবং তার সহযোগী কামাল হোসেন, শামশুল আলম মুনিব, আবদুল হামিদসহ দুই শতাধিক ক্যাডার সাধারণ রোহিঙ্গাদের নাম ব্যবহার করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশাল তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশে জঙ্গিদের ফের সংগঠিত করার কাজে নেমেছেন সালামত উল্লাহ ও তার সহযোগীরা। এ শীর্ষ জঙ্গিকে তার তিন পাকিস্তানি সহযোগীসহ ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামের একটি হোটেল থেকে আটক হয়। এরপর সালামত উল্লাহর বিপুল অর্থ তহবিলের হদিস পায় পুলিশ। সে সময় তাদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র।
.png)
আরসা বা আল ইয়াকিনের উপদেষ্টা সালামত উল্লাহ রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশনের (আরএসও) সভাপতি। কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরীপাড়া, কলাতলী, পিএমখালী এলাকায় তার পরিচালিত ৪টি মাদরাসা রয়েছে। এসব মাদরাসায় জঙ্গি ট্রেনিং ও রোহিঙ্গা শিশুদের পাঠদান করা হয়। মাদরাসাগুলোর অধিকাংশ শিক্ষক রোহিঙ্গা।
এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, তুরস্ক, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কুয়েত, কাতার, ব্রিটিশ, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে চলছে মাদরাসাগুলো।
সূত্রমতে, সালামত উল্লাহ মিয়ানমারের বুচিদং এলাকার থামিংচং গ্রামের হামিদ হোসেনের ছেলে। তিনি আফগানিস্তান ও লিবিয়া থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ১৯৯৪ সালে তিনি আফগানিস্তান যান। সেখান থেকে লিবিয়া হয়ে সৌদি আরবে কিছুদিন থাকেন। এরপর সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন পড়ালেখা করে ২০০৪ সালে বাংলাদেশে আসেন। বিশ্বের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব উৎস থেকে বিপুল অর্থ পেয়ে থাকেন সালামত উল্লাহ।
২০১৪ সালে পাকিস্তানি তিন সহযোগীসহ জঙ্গি নেতা সালামত উল্লাহ ও তার আরেক সহযোগী শফিউল্লাহ আটক হওয়ার খবরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জঙ্গি নেতারা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। আবদুল হাকিম, নবী হোসেন, মুন্না, রবিউল আলম, মোহাম্মদ আলম, নুর কামালসহ অসংখ্য রোহিঙ্গা জঙ্গি ও ডাকাত সালামত উল্লাহর সৃষ্টি বলে জানান সাধারণ রোহিঙ্গারা।
সালামত উল্লাহ ২০১৪ সালে এক বছর কারাভোগের পর বেরিয়ে আসেন। এরপর আবার পুরোনো পেশায় নতুন রূপে আবির্ভূত হন তিনি। তার অন্যতম সহযোগী আবদুল হামিদ জানান, বিদেশ থেকে অর্থ এনে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বণ্টন ছাড়াও মসজিদ মাদরাসা নির্মাণ করছেন সালামত উল্লাহ।
গত ৪ মাস আগে সালামত উল্লাহর আরেক সহযোগী মৌলানা কামাল সাড়ে ১৩ লাখ টাকাসহ র্যাবের হাতে আটক হন কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে। এসব টাকা দিয়ে তিনি হুন্ডি ব্যবসা করছিলেন বলে জানা গেছে। তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকাণ্ডেও লিপ্ত রয়েছেন।
কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অঢেল সম্পদ, গাড়ি-বাড়ির মালিক রোহিঙ্গা নেতা শাইখ সালামত উল্লাহ। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে, সালামত উল্লাহসহ তার সহযোগীরা ভোটার তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এর ফলে তিনি ও তার সহযোগী অনেকে বাংলাদেশি এনআইডি ব্যবহার করে পাসপোর্ট নিয়ে বছরের অধিকাংশ সময় বিদেশে থাকেন।
এমনকি সালামত উল্লাহ তুরস্কে রীতিমতো অফিস খুলে বসেছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের কথা বলে বিপুল অংকের অর্থ নিয়ে এসে সিংহভাগ নিজে আত্মসাৎ করেন বলে জানা গেছে।