ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভৈরবে নার্সের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, হাসপাতালের এমডি গ্রেফতার

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৩৪, ১২ জুলাই ২০২২
ভৈরবে নার্সের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, হাসপাতালের এমডি গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃত হানিফুর রহমান সুমন- ফাইল ফটো

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি প্রাইভেট হাসপাতালের নার্সের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় ঐ হাসপাতালের এমডিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগে, সোমবার সকালে ভৈরবের ইউনাইটেড হাসপাতাল অ্যান্ড অর্থোপেডিক সেন্টার থেকে রিমা প্রামাণিক নামে এক নার্সের মরদেহ করে পুলিশ। নিহত রিমা নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পিরিজকান্দি গ্রামের সেন্টু প্রামাণিকের মেয়ে।

রিমা ইউনাইটেড হাসপাতাল অ্যান্ড অর্থোপেডিক সেন্টার নামের বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ঘটনার পর সোমবার এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হলেও মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় নিহত রিমার বাবা সেন্টু চন্দ্র প্রমাণিক বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে ভৈরব থানায় একটি মামলা করেন।

Advertisement

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- ঐ হাসপাতালের এমডি হানিফুর রহমান সুমন এবং নার্স লিজাসহ অজ্ঞাত ৩ থেকে ৪ জন। মামলা দায়েরের আগে মঙ্গলবার ভোরে হাসপাতালের এমডি হানিফুর রহমান সুমনকে পুলিশ বাসা থেকে আটক করে। দুপুরে মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রিমা প্রমাণিক দুই বছর ধরে ঐ হাসপাতালে চাকরি করছিলেন। ঈদের তিনদিন আগে তিনি ছুটি নিয়ে নিজ বাড়ি রায়পুরার পিরিজকান্দি গ্রামে চলে যান। গত শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি ফোন দিয়ে ঈদের দিন ডিউটি করতে তাকে হাসপাতালে আসতে বলে। ঈদের দিন ডিউটি করে রাতে তিনি পাশের বিল্ডিংয়ের ৫ম তলায় নার্সদের থাকার রুমে ঘুমিয়ে পড়েন।

এজাহারে আরো বলা হয়, রবিবার ঈদের রাতে কোনো এক সময় হাসপাতালের কয়েকজন মিলে তাকে গলা টিপে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করেন। পরে ভোরে নিহতের বাবাকে জানানো হয় তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার সকালে পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করলে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

নিহত নার্স রিমার বাবা সেন্টু চন্দ্র প্রমাণিক বলেন, আমার মেয়ে ঈদের আগে ছুটিতে বাড়ি আসে। গত শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি ফোন দিয়ে হাসপাতালে ডিউটি করতে আসতে বলে। ঈদের দিন আমার মেয়ে ডিউটি করলেও রাত সাড়ে ৪টায় ফোন দিয়ে বলা হয় সে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে সোমবার ভোরে হাসপাতালে এসে দেখি রিমার মরদেহ হাসপাতালের নিচের কক্ষে শোয়ানো রয়েছে। সে আত্মহত্যা করলে তার ৫তলার শয়ন কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকতো। 

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। আমি গতকাল না বুঝে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলাম। মঙ্গলবার হত্যা মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

ভৈরব থানার ওসি মো. গোলাম মোস্তফা জানান, ঘটনাটি আত্মহত্যা না হত্যা তা তদন্তের পর এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে বলা যাবে। ঘটনায় নিহতের বাবা আজ থানায় দুজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। হাসপাতালের এমডি সুমনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!