জবানবন্দিতে প্রেমিকা দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের একদিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের হোতা মোর্শেদা আক্তারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতারকৃত পরকীয়া প্রেমিকা মোর্শেদা । মোর্শেদা আক্তার নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নের মানড়া নয়াপাড়া গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাবুল হোসেনের স্ত্রী।
এ বিষয়ে নাগরপুর থানার ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ১৯ জুলাই মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মানড়া নয়াপাড়া এলাকার কালভাটের নিচ থেকে শফিকুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই দিন এ ঘটনায় শফিকুলের স্ত্রী রাহেলা বেগম বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মনোয়ার হোসেন তথ্য প্রযুক্তি ও তদন্ত কৌশল কাজে লাগিয়ে ওই দিন রাতেই শফিকুল হত্যার মূল আসামি মোর্শেদাকে পাকুটিয়া থেকে গ্রেফতার করে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার মোর্শেদা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
.png)
তিনি জানান, শফিকুলের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন রাতে শফিকুল মোর্শেদার বাড়িতে এসে তাকে ডাকাডাকি করে। এ সময় মোর্শেদা শফিকুলকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললে শফিকুল বিষ খেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে মোর্শেদার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। সে সময় মোর্শেদা তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে মুখে কাপড় পেচিয়ে শফিকুলকে হত্যা করে। পরে মোর্শেদার দেবর অটোরিকশা চালক বারেক ও কালা চানকে সঙ্গে নিয়ে লাশ বস্তায় ভরে অটোরিকশা যোগে কালভার্টের নিচে ফেলে দেয়।
মোর্শেদার দেওয়া তথ্যানুসারে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অটোচালক মোর্শেদার দেবর আব্দুল বারেক মিয়াকে বৃহস্পতিবার জেলার মির্জাপুর আর অপর আসামি কালা চানকে নাগরপুরের কেদারপুর থেকে পুলিশ গ্রেফতার করা হয়েছে।