ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গেটম্যান আটক, ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

ট্রেন দুর্ঘটনা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪০, ২৯ জুলাই ২০২২
গেটম্যান আটক, ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবাস ও লাশ উদ্ধার করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ জন নিহতের ঘটনায় গেটম্যান মো. সাদ্দাম হোসেনকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রেলক্রসিং এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।

ওসি বলেন, গেটম্যান সাদ্দাম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Advertisement

এদিকে, এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার দুপুরে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনছার আলীকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী-১ আবদুল হামিদ, বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (লোকো) জাহিদ হাসান, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজানুর রহমান ও বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার (ডিএমও) মো. আনোয়ার হোসেন।

বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনছার আলী বলেন, ঘটনাটি কেন ঘটেছে, এতে কার দায় রয়েছে; সেটি জানতে কাজ করবে কমিটি। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আমরাও কাজ শুরু করেছি। চেষ্টা করছি তিন-চার দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করতে।

বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মুহম্মদ আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী মহানগর আপ যাচ্ছিল। একই সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতীও মীরসরাই বড়তাকিয়া এলাকায় একইস্থান পারাপার হচ্ছিল। মহানগর আপ ট্রেনটি যাওয়ার আগে ক্রসিংয়ের গেটে থাকা বাঁশ নামিয়েছিলেন গেটম্যান। এ সময় মহানগর আপ বড়তাকিয়া ক্রস করার সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোবাসটি বাঁশ উঠিয়ে লাইনে উঠে পড়ে। চট্টগ্রামমুখী ট্রেনটি আসার আগেই চলে যেতে পারবেন বলে ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু লাইনে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে প্রভাতী ট্রেনটি চলে আসে এবং মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়।

রেলের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, ঘটনার সময় গেটম্যান উপস্থিত ছিলেন। তিনি বারবার লাল পতাকা উচিয়ে লাইনে উঠতে বারণ করলেও মাইক্রোচালক শোনেননি। তার অবহেলার কারণেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি বিষয় তদন্তে জানা যাবে।

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে বড়তাকিয়া রেলস্টেশন এলাকায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহতের পাশাপাশি আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পাঁচজন। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

হতাহতদের সবার বাড়ি হাটহাজারীর আমানবাজার ও আশপাশের এলাকায়। তারা সবাই আমানবাজার এলাকার আরঅ্যান্ডজে প্রাইভেট কেয়ার নামে একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী। শুক্রবার সকালে ছাত্র-শিক্ষকসহ ১৭ জন মিলে গিয়েছিলেন খৈয়াছড়া ঝরণা দেখতে। সেখান থেকে ফেরার পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!