বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জামাল পাশা। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার দিরাজতুল্লাহ মাতুব্বরের ডাঙ্গী বাজার হতে মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ মোস্তফা শেখ ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের দিরাজতুল্লাহ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের সালাম শেখের ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, মঙ্গলবার রাতে দিরাজতুল্লাহ মাতুব্বরের ডাঙ্গী বাজার হতে মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মোস্তফা শেখ আকাশ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি। মোস্তফা ও আকাশ হত্যা মামলার আরেক পলাতক আসামি ফিরোজসহ আরো চার থেকে পাঁচজনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। তারা ফরিদপুর শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধ করে থাকে।
.png)
তিনি আরো জানান, নিহত আকাশ, ফিরোজ ও শিমুল খান যুবক ঢাকার সাভার এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তারা রাতে পাশাপাশি ভাড়া বাড়িতে থাকায় তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। গত শনিবার তারা তিনজন গোয়ালন্দ এলাকায় বেড়াতে আসেন। পরে রাতে ফিরোজের আমন্ত্রণে তাদের বাড়ি ফরিদপুর সদরের মোহাম্মদপুর এলাকায় যাওয়ার পথে কাচারিরটেক এলাকায় নামেন। আকাশের কাছে একটি দামি মোবাইল ফোন ছিল। সেটি পছন্দ হয় ফিরোজের। ফিরোজ মোবাইল ফোনটি তাকে দিতে বললে, আকাশ দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ফিরোজ আকাশের গলায় ছুরি মারে। এতে ফিরোজকে সহযোগিতা করে তার ভায়রা মোহাম্মদ মোস্তফা শেখ। পরে ফিরোজ ও মোস্তফা পালিয়ে যান।
নিহত মো. আকাশ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নৈয়ারীকুরা গ্রামের মো. স্বপনের ছেলে। এ ঘটনায় নিহত আকাশের বাবা মো. স্বপন বাদী হয়ে গত রবিবার বিকেলে ফিরোজ ও শিমুলের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ওসি এমএ জলিল বলেন, বুধবার বিকেলে হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলায় সাতদিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে মোস্তফাকে জেলার এক নম্বর আমলি আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।