ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নাম পাল্টে ২৭ বছর আত্মগোপনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তবুও হলো না রক্ষা

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৮:১০, ১৬ আগস্ট ২০২২
নাম পাল্টে ২৭ বছর আত্মগোপনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তবুও হলো না রক্ষা
ছবিতে আসামি আব্দুল আজিজ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত বিল্লাল হোসেন বিলুকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল আজিজকে (৫৫) নরসিংদীর শিবপুর হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃত আব্দুল আজিজ কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের বাহাদুরসাদী গ্রামের মৃত আলফাজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে। তিনি তৎকালীন স্থানীয় খলাপাড়া এলাকার ন্যাশনাল জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে নিহত বিল্লাল হোসেন বিলু একই ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী উরফে কিতাব আলীর ছেলে। তিনিও ন্যাশনাল জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। নিহত বিলু ও আসামি আজিজ পাশাপাশি গ্রামের বাড়ির বাসিন্দা।

Advertisement

ওসি জানান, র‌্যাব মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে আসামি আবদুল আজিজকে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের পর বিকেলেই গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মৈশাদী এলাকায় র‌্যাব-১ অভিযান চালিয়ে আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করে। 

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে লাউ চুরির ব্যাপারে কথা আছে বলে বিলুর বাড়ি থেকে আসামি রুস্তম আলী বিলু ও তার বাসার কর্মচারী জাকারিয়াকে ঈশ্বরপুর বাজারে নিজাম উদ্দিনের দোকানের উত্তর পার্শ্বে ডেকে নেন। এ সময় আসামি আব্দুল আজিজসহ অন্যান্য আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিলুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি, দা, কুড়াল ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে ছিলেন। ভিকটিম বিলু ও জাকারিয়ার সঙ্গে আসামি কাদির ও তার ভাই ছাদিরের সঙ্গে লাউ চুরির বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসামি ফালান তার হাতে থাকা লোহার তৈরি কুড়াল দিয়ে ভিকটিমের মাথার পেছনে আঘাত করে।

এতে রক্তাক্ত হয়ে বিলু বাজারের দক্ষিণ দিকে জনৈক জোতিন্দ্র বাবুর কফি ক্ষেতের ভেতর দিয়ে রাস্তায় উঠলে আজিজ, ফালান, কাদির, ছাদির, কালাম, বাজিত, ওসমান, আ. ছামাদ, হুমায়ুন, রুস্তম আলী, মানিক, ফারুক ও আলম পেছন থেকে ধাওয়া করে বিলুকে ধরে ফেলে এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। অতঃপর বিলু রাস্তার দক্ষিণ পার্শ্বে জোতিন্দ্র বাবুর জমিতে পড়ে যান। পরে আসামি ফালান কুড়াল দিয়ে বিলুর বুকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। ওই সময় আ. আব্দুল আজিজ তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করেন। 

পরবর্তীতে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর ভিকটিমের ভাই মো. জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিসহ ফালান, কাদির, ছাদির, কালাম, বাজিত, আ. আজিজ, ওসমান, আ. ছামাদ, হুমায়ুন, রুস্তম আলীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে কর্মকর্তা ১৯৯৭ সালের ১০ মে আসামি আব্দুল আজিজসহ এজাহার নামীয় ১০ জনসহ তদন্তে প্রাপ্ত ঘটনায় জড়িত মানিক, ফারুক ও আলমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার পর থেকে আসামি আব্দুল আজিজ আত্মগোপনে থাকায় থানা পুলিশ গ্রেফতারে ব্যর্থ হয়।

পরবর্তীতে চার্জশিটের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, প্রথম আদালত, গাজীপুর বিচারকার্য পরিচালনা করে এবং পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ভিকটিম বিলুকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে আসামি আব্দুল আজিজসহ ১৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে।

উক্ত ঘটনার পর থেকে আসামি আব্দুল আজিজ দীর্ঘ ২৭ বছর পলাতক ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৮ আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং একজন আসামি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। অপর তিন আসামি যথাক্রমে ফালান, আলম ও মানিক এখনো পলাতক রয়েছেন।

আসামি আব্দুল আজিজ ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে তিনি কোনোদিন কালীগঞ্জের নিজ স্থায়ী ঠিকানায় যাননি। এমনকি তিনি এনআইডিতে নিজের ঠিকানা পরিবর্তন করে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ ও পেশা পরিবর্তন করে কাঁচা তরকারির ব্যবসা করে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মৈশাদী গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!