মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসাদুজ্জামান কামাল কবিরাজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কড়া পুলিশ পাহারায় জেলা করাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসাদুজ্জামান কামাল কবিরাজ মিরপুর উপজেলার শামুখিয়া গ্রামের হান্নান ওরফে সন্টু কবিরাজের ছেলে।
.png)
কুষ্টিয়া জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পশ্চিম চুনিয়াপাড়া গ্রামে বহুরুল ইসলামের মেয়ে ডলি খাতুনের সঙ্গে ১৪ বছর আগে পারিবারিকভাব বিয়ে হয় একই উপজেলার শামুখিয়া গ্রামের হান্নান ওরফে সন্টু কবিরাজের ছেলে আসাদুজ্জামান কামাল কবিরাজের সঙ্গে।
বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ডলির সঙ্গে কামালের কলহ লেগে থাকতো। এর মধ্যেই ডলি মিরপুর থানার তালবাড়ীয়া পরিবার পরিকল্পনা অফিসে স্বাস্থ্য সহকারী পদে চাকরি পায়। চাকরি পাওয়ার পর থেকে ডলি খাতুনের ওপর তার স্বামী কামাল নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল সকালে আসাদুজ্জামান কামালের সঙ্গে তার স্ত্রী ডলির কথা কাটাকাটি এবং ধস্তাধস্তি হয়। এর এক পর্যায়ে কামাল তার স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করে। এবং ডলি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে বলে ডলির বাবা বহুরুল ইসলামকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বহুরুল ইসলাম ডলির মরদেহ দেখে সন্দেহ হলে ডলির বাবা বহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একই দিনে মিরপুর থানায় ডলির স্বামী আসাদুজ্জামান কামাল কবিরাজ, তার বাবা সন্টু কবিরাজ এবং মাতা আমেনা খাতুনকে আসামি করে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় গ্রেফতারের পর স্ত্রীকে ডলিকে গলা টিপে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন আসাদুজ্জামান কামাল কবিরাজ।
মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসাদুজ্জামান কামালকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালে ২৬ জুন মামলার চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আবু বক্কার। পরে দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ প্রমাণের ভিত্তিত্বে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।