মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপস্থিতিতে সমাজপ্রধান মিন্টু বাঁশফোড় এ জরিমানার আদেশ দেন।
এদিকে জরিমানা পরিশোধ না করায় ওই পরিবারকে একঘরে করে দেওয়ার হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চন্দন বাবু চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বাবু দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুর হল্ট স্টেশনপাড়ার রামু বাঁশফোড়ের ছেলে।
.png)
ভুক্তভোগী চন্দন বাবু বলেন, গত ২০ এপ্রিল নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোর্ট থেকে বিবাহ রেজিস্ট্রি করি। এরপর দুই পরিবার মেনে নেয়ায় ১২ অক্টোবর বরযাত্রী নিয়ে শ্বশুরবাড়ি খুলনার খালিসপুর যাই। পরদিন আমাদের বাসায় বউভাতের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, সেখানে বাঁশফোড় সম্প্রদায়ের সমাজপ্রধান মিন্টু বাঁশফোড়, দিতেন বাঁশফোড়, রাজু বাঁশফোড়, আকবার বাঁশফোড়, রংলাল বাঁশফোড়সহ সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীরা মাংসের সাইজ ছোট বলে গণ্ডগোল করেন। পরে তারা না খেয়ে চলে যান।
চন্দন বাবু আরো বলেন, ঘটনার দুইদিন পর সন্ধ্যার দিকে সালিশ ডেকে আমার বাবাকে পাঁচ বোতল কেরু অ্যান্ড কোম্পানির বাংলা মদ ও দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিষয়টি আমরা না মানায় তারা আমাদের একঘরে করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশে অভিযোগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে বাঁশফোড় সম্প্রদায়ের দর্শনার সমাজপ্রধান মিন্টু বাঁশফোড় বলেন, সম্প্রদায়ের রীতিনীতি অনুযায়ী সামাজিক নিয়ম না মানার কারণে পাঁচ বোতল মদ ও দুই হাজার টাকা জরিমানা করেছি। তারা এখনো পরিশোধ না করে উল্টো প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের কাছে বিচার দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বউভাতে মাংসের পিস ছোট হয়েছিল। আমাদের নিয়ম অনুসারে এক কেজি মাংস ১০ টুকরো করতে হবে এবং তা প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে কাটতে হবে। তারা এসব মানেনি। আর আগেও তার মেয়ের বিয়েতে সামাজিক নিয়ম না মানার কারণে পাঁচ হাজার টাকা ও ১০ বোতল মদ জরিমানা করা হয়েছিল।
দর্শনা পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের কমিশনার খালেকুজ্জামান খালেক বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তাদের মদ ও টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত সিংহ রায় বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এ ধরনের নিয়মকানুন মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা বেগম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার আমার কাছে এসে বিষয়টি জানিয়েছে। যেহেতু জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।