ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

শিক্ষা সামগ্রীর বাড়তি দামে হিমশিম অভিভাবকরা

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:১১, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষা সামগ্রীর বাড়তি দামে হিমশিম অভিভাবকরা
সংগৃহীত ছবি

কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় খাতা-কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রীর বাজারেও। ফলে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে।

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা রত্না আকতার দুই সন্তানের অভিভাবক। তিনি বলেন, আগের তুলনায় সন্তানদের পড়াশোনার খরচ অনেক বেড়েছে। স্কুলের বেতন, ব্যাগ, পোশাকসহ বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রীর বাড়তি ব্যয় সামলাতে গিয়ে সংসারের অন্য খরচ কমাতে হচ্ছে। সীমিত আয়ে সবকিছু সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

Advertisement

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় মাসিক বাজেটে সামলাতে গিয়ে রত্না আকতারের মতো মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের অভিভাবকেরাও হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, পোশাক ও জুতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এ সহায়তা সীমিত হওয়ায় সব শিক্ষার্থী এর আওতায় আসছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি সহায়তা সবার জন্য একইভাবে না দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক করা প্রয়োজন। এতে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীরা বেশি সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে বাজারে শিক্ষাসামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আর্থিক সংকটে থাকা অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশনারি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, খাতা, কলম, পেনসিল, শার্পনার, ইরেজার, ক্যালকুলেটর ও জিওমেট্রি বক্সসহ নানা শিক্ষাসামগ্রীর দাম গত পাঁচ বছরে বেড়েছে। কিছু পণ্যের দাম সরাসরি না বাড়লেও আকার বা পরিমাণ কমেছে। ফলে একই অর্থ ব্যয় করেও ক্রেতারা আগের তুলনায় কম পণ্য পাচ্ছেন। অর্থনীতিতে এ প্রবণতাকে ‘সংকোচন মূল্যস্ফীতি’ বা shrinkflation বলা হয়।

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় জিওমেট্রি বক্স ১২০ থেকে ৩০০ টাকা এবং মডেল ও মানভেদে ক্যালকুলেটর ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। শার্পনার, ইরেজার, কাঠপেনসিল ও রংপেনসিলের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে।

কিছু পণ্যের দাম ৫ বা ১০ টাকায় অপরিবর্তিত থাকলেও আকার ছোট করা হয়েছে। যেমন ১০ টাকার রাবার এখনো পাওয়া গেলেও সেটির আকার আগের তুলনায় কম। ফলে একই দামে কম পরিমাণ পণ্য কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

খাতার দামেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। পাঁচ বছর আগে ২৮০ টাকার এক রিম খাতার দাম এখন প্রায় ৫৫০ থেকে ৬২০ টাকা। খুচরা বাজারে ২৪ পৃষ্ঠার এক দিস্তা কাগজের দাম ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা হয়েছে। ৩০০ পৃষ্ঠার স্পাইরাল খাতা আগে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন দাম পড়ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। প্র্যাকটিক্যাল খাতার দামও বেড়েছে; ৫০ টাকার খাতা এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাড্ডার সুমনা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রফিক মিয়া প্রায় ১০ বছর ধরে স্টেশনারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, করোনার পর থেকে স্টেশনারি ও শিক্ষাসামগ্রীর দাম বাড়তে শুরু করে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দামে আরও প্রভাব পড়েছে।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, দেশে শিক্ষাসামগ্রীর দামের ওপর কার্যকর সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ নেই। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করলেই এ সংকটের সমাধান হবে না। শিক্ষাসামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি আশঙ্কা করেন, শিক্ষার ব্যয় বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের ঝরে পড়ার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপের চিত্র উঠে এসেছে। ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দামে প্রভাব ফেলেছে। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যয়ও বাড়ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!