স্কুলে অপমানে ক্ষুব্ধ স্কুলছাত্রী খেলো ‘ডিটারজেন্ট পাউডার’
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পরীক্ষার ফ্রি বকেয়া থাকায় স্কুল থেকে বের করে দেওয়ায় অপমান সইতে না পেরে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর অসুস্থ স্কুলছাত্রী রোজিনা আক্তারকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বিকেলে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রোজিনা গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নছরউদ্দিন সরদার পাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিন শেখের মেয়ে ও মুন স্টার কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
স্কুলছাত্রীর বাবা নিজাম উদ্দিন শেখ জানান, তার মেয়ের ক্লাস রোল ৩, চলতি মাসসহ স্কুলের বিভিন্ন ফি বাবদ ১৯শ’ টাকা পাওনা ছিল। সপ্তাহখানেক আগে ১৫শ’ টাকা পরিশোধ করে দিই। ৪ সেপ্টেম্বর রোববার স্কুলে পরীক্ষা চলাকালে চলতি মাসের বেতন বকেয়া থাকায় তার মেয়েকে অপমান করে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেন প্রধান শিক্ষক।
.png)
তিনি আরো জানান, এরপর মেয়ে অপমান সইতে না পেরে বাড়িতে এসে সবার অজান্তে ডিটারজেন্ট পাউডার গুলিয়ে খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টি পরিবারের লোকজন টের পেয়ে মেয়েকে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ তার মেয়েকে এভাবে অপমান না করে অভিভাবক হিসেবে আমাকে বলতে পারতেন। আমি বেতনের ৪শ’ টাকা পরিশোধ করে দিতে পারতাম।
স্কুলের শিক্ষকরা জানান, শেষ পরীক্ষার দিন শুধু রোজিনা আক্তারই নয়, বেতন বকেয়া থাকায় আরো প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। রোজিনা যে এ ধরনের কাজ করবে তা তারা বুঝতে পারেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিম জানান, মুন স্টার কলেজিয়েট স্কুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের বেতনেই শিক্ষকদের বেতন হয়। এরমধ্যে অন্তত ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা শিক্ষার্থীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে অপমান করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। বরং বলা হয়েছে, বেতন পরিশোধ করলে পরবর্তীতে এই পরীক্ষা নেয়া হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আঁখি বিশ্বাস জানান, ডিটারজেন্ট পাউডার খেয়ে অসুস্থ হওয়া ওই স্কুলছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও আরো সময় না গেলে কিছু বলা যাচ্ছে না।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শরীফ মোহাম্মদ জানান, যেকোনো ধরনের পয়জন খাওয়া রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসার যে নিয়ম, এ ক্ষেত্রে সেটা করা সম্ভব হয় না। কারণ ডিটারজেন্ট পাউডার খাওয়া রোগীর শ্বাসনালীতে এক ধরনের বার্ণের সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে ৩ থেকে ৭ দিন পরও রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে।