কক্সবাজারে মামলাজটের কারণ রোহিঙ্গারা!
কক্সবাজার আদালতে মামলাজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গারা। সম্প্রতি এ অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিচারিক প্রশাসন। এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জেলা আইনজীবী সমিতি ও আইনজীবীদের সহযোগিতা চেয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্রমাগত বাড়ছে মাদক, হুন্ডি, খুন,অগ্নিসংযোগও অস্ত্রের ঝনঝনানি। প্রতিদিন কোনো না কোনো ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা। ক্যাম্পগুলোতে সশস্ত্র তৎপরতা, মানবপাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণের মতো ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন। ক্যাম্পে বসেই ইয়াবা ব্যবসা করে কোটিপতির খাতায় নাম লেখাচ্ছেন নতুন নতুন রোহিঙ্গারা। তাদের কারণে কক্সবাজার পর্যটন খাত আজ হুমকির সম্মুখীন।
এসব বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি জেলা বিচারিক প্রশাসন বিষয়টি নজরে নিয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র জেলা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা মাদক ব্যবসা, হত্যা, গুম, ধর্ষণ, মানবপাচার, ডাকাতি, অপহরণসহ নানা অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এতে ঐ এলাকার পাশে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা রক্ষায় ও অপরাধ দমনে হিমশিম খাচ্ছে। দিনদিন তাদের অপরাধের মাত্রা বাড়ছে। এসব অপরাধ আমলে নিয়ে কোথাও না কোথাও মামলাও হচ্ছে।
.png)
আদালত আরো জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নামে হত্যা, অপহরণ, মাদক, ডাকাতিসহ অন্যান্য মামলায় তদন্তের নির্ধারিত সময়ের আগে জামিনের বিষয়ে তদবির না করে তদন্ত কার্যে সহযোগিতা করা সংশ্লিষ্ট সবারই নৈতিক দায়িত্ব।
উল্লেখিত মামলাগুলোয় আসামির পক্ষে ফৌজদারী মিস মামলা মূলে জামিন বিষয়ে কোনো আদেশ প্রচারিত হলে পরবর্তীকালে একই আসামির জামিনের জন্য চার মাসের মধ্যে ভিন্ন কোনো ফৌজদারী মিস দরখাস্ত দাখিল করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা বিচারিক প্রশাসন।
এ বিষয়ে সবার জ্ঞাতার্থে ও কার্যার্থে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, প্রথম ও দ্বিতীয় আদালত, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং জেলা বারের নোটিশ বোর্ডেও টানানো হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী গৌতম দে বলেন, বিচারিক প্রশাসনের নোটিশের আগেই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত ছিল। লোভের কারণে রোহিঙ্গাদের জামিনে আমরা প্রতিযোগিতামূলকভাবে দৌড়াই। এ অবজারভেশন সেটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে। এরপরও যদি আমাদের শিক্ষা না হয় তাহলে বুঝতে হবে আমরা আদালতকে অসহযোগিতা করছি।