ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অনুপস্থিত ৩১ পরীক্ষার্থীর ২৬ জনই বাল্যবিয়ের শিকার

এসএসসি পরীক্ষা
মো. আলমগীর কবির মান্নু, ইন্দুরকানী (পিরোজপুর)
প্রকাশিত: ২০:৫১, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
অনুপস্থিত ৩১ পরীক্ষার্থীর ২৬ জনই বাল্যবিয়ের শিকার
ফাইল ছবি

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় এবারের দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের বড় অংশকেই বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন তাদের অভিভাবকরা। কর্তৃপক্ষের চোখ এড়িয়ে নানা কৌশল অবলম্বন করে তারা মেয়েদের অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে দিয়েছেন।

জানা গেছে, ইন্দুরকানী উপজেলায় চলমান এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য ফর্মফিলাপ করার পরও শেষ পর্যন্ত ৩১ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। যার মধ্যে ২৬ জনই ছাত্রী।

বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানান, যেসব ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না তাদের সবারই বিয়ে হয়ে গেছে। যার বেশি ভাগই বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। যদিও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বয়স বিয়ের উপযোগী নয়। আর সে কারণেই এসব বিয়ের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের চোখ এড়াতে নানা কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছিল বলে জানান স্থানীয় শিক্ষকরা।

Advertisement

গত ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৬৭৯ জন এবং দাখিল পরীক্ষায় ১৮টি মাদরাসা থেকে ৪২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য ফর্ম পূরণ করেছিলো।

বাল্য বিবাহের স্বীকার মাদরাসা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী উপজেলার কালাইয়া গ্রামের খাদিজা আক্তার হীরা জানায়, দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পরে আমার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার একমাস আগে আমার একটি সন্তান হয়। প্রথম পরীক্ষা দেওয়ার পর আমার বাচ্চা অসুস্থ থাকার কারণে আমি পরবর্তীতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি। আমার পড়ালেখার করার ইচ্ছে ছিল।

উপজেলার কালাইয়া রাজিয়া রশীদ মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, অনুপস্থিত সব মেয়েরই বিয়ে হয়েছে। অথচ এরা প্রত্যেকেই মেধাবী ছাত্রী ছিল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন্নেসা খানম জানান, অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ না নেয়ার কারণ আমরা অনুসন্ধান করব। এরা সবাই বিয়ের কারণেই অনুপস্থিত কিনা এগুলো আমরা বিস্তারিত এখনো জানি না। তবে বাল্যবিয়ের খবর পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এটি অবশ্য সত্য যে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় গিয়ে অভিনব কৌশলে কেউ কেউ বাল্যবিয়ে দিচ্ছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: বাল্যবিয়ে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!