ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৫৩, ১ অক্টোবর ২০২২
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে তিন মাস পর মিলল ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে তিন মাস পর মিলল ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা। এছাড়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট এ টি এম ফরহাদ, সহকারী কমিশনার জোহরা সুলতানা যুথী, মোছা. নাবিলা ফেরদৌস।

টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন রুপালি ব্যাংকের এজিএম ও অন্যান্য কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ।

Advertisement

এর আগে সর্বশেষ ২ জুলাই ৩ মাস ২০ দিন পরে দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন ৩ কোটি ৬০ লাখ ২৮ হাজার ৪১৫ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গিয়েছিল। এবার ৩ মাস ১ দিন পর দান সিন্দুকগুলো খোলা হয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দানসিন্দুক খোলা হয়। দানসিন্দুকগুলো খুলে ১৫টি বস্তায় টাকাগুলো আনা হয়েছে গণনার জন্য।  

পাগলা মসজিদের দান বাক্সে বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার

পাগলা মসজিদে দান করলে মনের ইচ্ছাপূরণ হয়- এমন বিশ্বাসে মুসলমান ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের লোকজন এখানে দান করেন। টাকা ছাড়াও পাওয়া যায় চাল-ডাল, গবাদিপশু আর হাঁস-মুরগি। এসব পণ্য নিলামে বিক্রি করে জমা করা হয় মসজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।

জনশ্রুতি রয়েছে, ৫০ বছর আগে পাগলবেশী এক সাধু পুরুষ নরসুন্দা নদীর মাঝখানে পানিতে মাদুর পেতে আশ্রয় নেন। তার মৃত্যুর পর সমাধির পাশে এ মসজিদটি গড়ে ওঠে। সেই থেকে পাগলা মসজিদ নামে পরিচিতি মসজিদটি।

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এ মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ এ মসজিদের পরিধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্যও। মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি অত্যাধুনিক ধর্মীয় কমপ্লেক্স এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রসারিত হয়েছে মূল মসজিদ ভবন।

দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্সের বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!