মঙ্গলবার পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গাজীপুর মেট্রো বাসন থানা এলাকার ট্রাভেল ব্যবসায়ী হেদায়েত লস্কর বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে ভারত থেকে ওষুধ বাংলাদেশে আনতেন। মহানগরের কড্ডা এলাকার তারিকুজ্জামান ওরফে তারিফ অসুস্থ থাকায় তার মাধ্যমে গত বছরের ২৫ জুলাই ভারত থেকে ওষুধ আনেন এব ঐদিন রাত সোয়া ১০টার দিকে ঐ ওষুধ নিয়ে কড্ডা’র তাকওয়া ফার্মেসি এলাকায় গেলে দাম নিয়ে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারিকুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে হেদায়েতকে কিল ঘুষি মারতে মারতে ড্রেনে ফেলে দেয়।
এ সময় আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে হেদায়াতকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মৃতের স্ত্রী যুথি আক্তার বাদী হয়ে বাসন থানায় একজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
.png)
এ মামলার তদন্তে বাসন থানা পুলিশ একমাত্র আসামিকে অব্যহতি দিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন। মামলার বাদী যুথী আক্তার ঐ রিপোর্টের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজির আবেদন করলে আদালত বাদীর নআবেদন মঞ্জুর করেন এবং মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই গাজীপুর জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই এর উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মিজানুর রহমান মামলাটি পুনরায় তদন্ত করেন।
মিজাননুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত আনোয়ার হোসেন এজাহারনামীয় আসামি তারিকুজ্জামানের ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভার ছিল। ঘটনার সময় তারিকুজ্জামান ও হেদায়েত লস্করের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুনে সে এগিয়ে যায়। তারিকুজ্জামান ওষুধের দাম নিয়ে হেদায়েত লষ্করকে মারধর করে রাস্তার পাশে ড্রেনে ফেলে দেয়। এ সময় আনোয়ার হোসেনকে ড্রেন থেকে উপরে তোলে তারিফুজ্জামানের নির্দেশে হেদায়েত লস্করকে আবার লাথি মেরে ড্রেনে ফেলে দেয়। কিছুক্ষণ পর আনোয়ার হোসেন আবার হেদায়েত লস্করকে ড্রেন থেকে উপরে তোলে আনলে তারিকুজ্জামানের শ্বশুর ফারুক আহম্মেদ লাথি মেরে আবার ড্রেনে ফেলে দেয়। এতে লস্করের অবস্থা খারাপ হয়।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিরা হেদায়েত লস্কর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা বিস্তারিত বর্ণনা করে মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।