ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নান্দাইলে মোজাম্মেল হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ৩

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:২৮, ৪ জুন ২০২২
নান্দাইলে মোজাম্মেল হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ৩
গ্রেফতারকৃতরা-ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ী মৃগালী এলাকার সড়কের পাশ থেকে উদ্ধারকৃত লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মৃত মোজাম্মেল হোসেন নান্দাইল উপজেলার সাভার এলাকার বাসিন্দা ফরিদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া এলাকার আবুল মনসুরের ছেলে মো. আবু রায়হান, গাংপাড়া এলাকার নূর আহাম্মদ মিলনের ছেলে মো. মোজাম্মেল হক এবং ধামদী এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে মো. জিয়াউর রহমান সাইদুল।

শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মো. সফিকুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার (৩ জুন) রাতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement

ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে যাত্রীবেশে মোজাম্মেল হোসেনের সিএনজি ভাড়া করে ময়মনসিংহ শহরে আসে তারা। সময়ক্ষেপণ করে রাত গভীর হলে ময়মনসিংহ থেকে ঈশ্বরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা করে। একপর্যায়ে মাঝ রাস্তায় মোজাম্মেলের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার বাবা মো. ফরিদ মিয়াকে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। টাকা না পেয়ে আসামিরা মোজাম্মেলকে চালকের আসন থেকে জোর করে নামিয়ে যাত্রীর আসনের মাঝখানে বসায় এবং আসামি জিয়াউর রহমান সাইদুল সিএনজিটি চালায়। সিএনজির যাত্রীর আসনে মাঝখানে চালক মোজাম্মেল হোসেনকে বসিয়ে আসামি আবু রায়হান ও আসামি মোজাম্মেল হক দুই পাশে বসে। আসামিরা পরিকল্পনা মতো চালক মোজাম্মেল হোসেনকে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে নাক ও মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে রাস্তার পাশে ফেলে সিএনজি ও মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ওসি সফিকুল ইসলাম আরো জানান, নিখোঁজের পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মোজাম্মেলের পরিবারের লোকজন আঠারবাড়ী-ঈশ্বরগঞ্জ সড়কে মৃগালী এলাকায় রাস্তার পাশে মোজাম্মেলের লাশের খোঁজ পায়। ওই দিন তার বাবা মো. ফরিদ মিয়া বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার উপর ন্যস্ত হয়। অবশেষে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটিত হলো। 

এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সিএনজি অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃতরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!